নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বুধবার,

১০ আগস্ট ২০২২

অবশেষে সেই সোর্স, মহাসড়কের চাঁদাবাজ টেম্পু আতিক গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:২৩:৪৮, ২ জুলাই ২০২২

অবশেষে সেই সোর্স, মহাসড়কের চাঁদাবাজ টেম্পু আতিক গ্রেপ্তার

সিদ্ধিরগঞ্জের সেই সোর্স, হত্যা মামলার আসামি ও মহাসড়কের চিহ্নিত চাঁদাবাজ টেম্পু আতিককে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মহাসড়কে চাঁদা না পেয়ে লেগুনা গাড়ির চালক ও মালিককে মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শনিবার (২ জুলাই)  দিবাগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের বাগানবাড়ি এলাকার তার বাসার সামনে থেবেক সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রিপন তাকে গ্রেপ্তার করে। সে ওই মামলা অন্যতম প্রধান আসামি। এরআগে পুলিশ এ মামলার দুই নং আসামি শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করে।   


মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন মাদারীপুর জেলাসদরের পাটখোলা এলাকার মৃত সুরুজ জামাল মিয়ার ছেলে স¤্রাট আকবর সবুজ।


বর্তমানে তিনি রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার মাতুয়াইল নিমতলা মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা। পঙ্গু হয়ে সবুজ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। জীবীকার তাগিদে বিভিন্ন লোকজনের সাহায্য সহযোগীতায় একটি লেগুনা কিনে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোড থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ভাড়ায় চালাচ্ছেন। 


এককালিন ১০ হাজার ও দৈনিক ১ হাজার টাকা চাঁদার দাবিতে গত ২৮ জুন দুপুর ১২ টায় ডাচ বাংলা বাংকের সামনে বাদীর লেগুনা গাড়ি আটকিয়ে চালক আলাউদ্দিনকে চাঁদাবাজ আতিকুর রহমান হুমকি দেয় যে, চাঁদা না দিলে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিবে।


বিষয়টি জানতে পেরে বাদী ঘটনাস্থলে এসে চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বেলা আড়াইটার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রথমে লেগুনা গাড়িটি (রেজিঃ-নং ঢাকা মেট্রো-ছ-১১-৩৯৩৬) ভাঙচুর করে অন্তত ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।


 ভাঙচুরে বাধা দিলে আসামিরা বাদীকে মারধর করে জখম করে। এক পর্যায়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে আতিক তার পেটের উপর বসে প্লাস দিয়ে মুখের দাঁত তুলে ফেলার চেষ্টা করে এবং সাথে থাকা ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। 


এসময় গাড়ি চালক আলাউদ্দিন বাদীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে অন্য আসামিরা তাকে চড় থাপ্পর ও কিল ঘুষি মেরে আহত করে।


চাঁদাবাজরা চলে গেলে অটো চালক নুর আলম আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে যায়। চিকিৎসা শেষে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করার পর পুলিশ মামলা রুজু করেন। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আতিক একটি হত্যা মামলার আসামি। একসময় মে পুলিশের দুর্ধর্ষ সোর্স ছিলো। এর সুবাদেই আতিক জড়িয়ে পড়ে নানা অপরাধ কর্মকান্ডে। মাদক, দেহব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সুদ ব্যবসা করা আতিকের পেশা। সুদে টাকা লাগিয়ে বহু মানুষকে নিঃস্ব করেছে আতিক। 


অন্তত বিশ বছর ধরে আতিক চাঁদাবাজি করে আসছে। বর্তমানে সে মহাসড়কের আতংক। তার চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট লেগুনা পরিবহনের মালিক শ্রমিকরা। এরআগে টেম্পো থেকে চাঁদাবাজি করায় তিনি টেম্পো আতিক হিসেবে পরিচিতি পায়। 


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রিপন বলেন, চাঁদা দাবি, গাড়ি ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন, মারধর ও চুরির অপরাধে ৩০ জুন মামলাটি রুজু করা হয়। মামলা রুজুর ২ দিনের মধ্যেই প্রধান দু’আসামিকেসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


প্রসঙ্গত, ঢাকায় আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণকারী স¤্রাট আকবর সবুজ , চাঁদা দাবি, গাড়ি ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন, মারধর ও চুরির  অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের করেন। 


মামলার আসামিরা হলো- সিদ্ধিরগঞ্জ বাগানবাড়ী এলাকার মো. নূর উদ্দিন মুন্সির ছেলে মো. আতিকুর রহমান (৪৫), তার ছেলে শাহজাহান (২৫), আটি এলাকার মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন মুন্না (২৩), হাউজিং এলাকার সোহাগ (২৮) ও অজ্ঞাতনামা চার পাঁচজন।