নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

৩০ জানুয়ারি ২০২৩

গতবারের চেয়ে এবার মেলার পরিসর আরও বাড়ানো হয়েছে 

রূপগঞ্জে বাণিজ্য মেলা শুরু ১ জানুয়ারি, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী 

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৮:৪১, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২

রূপগঞ্জে বাণিজ্য মেলা শুরু ১ জানুয়ারি, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল উপশহরে দ্বিতীয় বারের মতো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পূর্বাচলের ৪ নম্বর সেক্টরের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে দ্বিতীয়বারের মতো বসবে এ মেলা।

 

মেলা উদ্বোধনকে সামনে রেখে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার মেলার পরিসর আরও বাড়ানো হয়েছে। ১ জানুয়ারি, রোববার সকাল ১০টায় ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা’র ২৭তম আসর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 


এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন ও বাণিজ্যমেলার উদ্বোধন ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।  মেলা উপলক্ষে কুড়িল থেকে মেলার ভেন্যু পর্যন্ত যাত্রীদের আনা-নেওয়ার জন্য ৫০টি শাটল বাস চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন। বাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিকাশের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ করলে যাত্রীরা ৫০ শতাংশ ছাড়ও পাবেন।


এবার মেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৪০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ফ্রি।


অপরদিকে পূর্বাচলে এ মেলা বসায় অনেক খুশি স্থানীয়রা। তারা বলেন, এখানে এ আন্তর্জাতিক মেলা বসায় এখানকার বিভিন্ন স্টলে কাজের সুযোগ বেড়েছে। এছাড়া মেলাকে কেন্দ্র করে এখানকার লোকজন বাড়তি টাকা উপার্জন করবে। এমনকি মেলাকে ঘিরে এলাকাতেও বেশ উন্নয়ন হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।


অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে ঘিরে মেলা ও এর আশপাশের নিরাপত্তায় মেলার নিয়োজিত বিপুল পরিমাণ পুলিশ, র‌্যাবসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়েছে নানা পদক্ষেপ। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সদস্য ছাড়াও ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর জেলা পুলিশরাও কাজ করবেন নিরাপত্তার দায়িত্বে।


শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মেলার উদ্বোধন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, স্থায়ী এক্সিবিশন সেন্টার একটু দূরে হলেও মেলায় অংশগ্রহণকারী ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

 

মেলার মাধ্যমে আমরা দেশে তৈরি পণ্য দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ পাই। বাংলাদেশে তৈরি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরাই মেলার মূল লক্ষ্য বলে তিনি জানান।


তিনি বলেন, বাংলাদেশের পণ্যের মান বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিবছর রপ্তানি বাড়ছে। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রপ্তানি বেশি ছিল।


মন্ত্রী বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দেশের অভ্যন্তরে ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেবল টাকার অংকে মুনাফা করার উদ্দেশ্য মেলার আয়োজন করা হয় না।


তিনি জানান, গতবছর মেলায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য রপ্তানির স্পট আদেশ পাওয়া গিয়েছিল। 
প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের পাশাপাশি আরও ১০টি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আইসিটি খুবই সম্ভাবনাময় পণ্য, স্বল্পসময়ে এ খাতের রপ্তানি ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে বলে আশা করছি।


বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি আরও জানান, বরাবরের ন্যায় এবারও মেলায় বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন নির্মাণ করা হচ্ছে। জাতির পিতার জীবন ও আদর্শ, স্বাধীনতা সংগ্রাম, উন্নত শিল্প সমৃদ্ধ-সোনার বাংলা বিনির্মাণে তার অবদান ও ভাবনা, দেশের উন্নয়ন ইত্যাদিকে প্রক্ষেপন করে এবারের বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন অধিকতর নান্দনিক, ভাবগাম্ভীর্য ও অর্থপূর্ণভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়াও যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নেওয়ার প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হবে।  


বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়নের ভেতরে জাতির পিতার জীবন ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রদর্শন ছাড়াও তার সম্পর্কিত পুস্তকাদি এবং তার জীবন কর্মভিত্তিক ডকুমেন্টারি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, বাণিজ্য মেলা সফল করতে ইপিবি সব রকমভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। মেলা সফল করতে সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।


মেলায় এবারও সাধারণ, প্রিমিয়াম, সংরক্ষিত, ফুড স্টল ও রেস্তোরসহ ১৩ ক্যাটাগরিতে স্টল রয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে রয়েছে বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন। এবার দেশি-বিদেশি মিলে মেলায় মোট ৩৫১টি স্টল, প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। গতবার এই সংখ্যা ছিল ২২৫টি।


ইপিবি সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, দেশি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, কোরিয়া, ভারতসহ ১০টি বিদেশি রাষ্ট্রের ১৭টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। এছাড়া গতবার শিশুপার্ক ছিল না, এবার মিনি শিশুপার্ক রয়েছে। ফুডকোর্ট নিচে চলে গেছে, পরিবেশও ভালো হয়েছে। পরিসর বড় হয়েছে। গতবারের তুলনায় এবারের মেলা আরও বেশি জমজমাট হবে।


রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ এফ এম সায়েদ জানান, মেলায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। মেলায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা দর্শনার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিষয় দেখভাল করবেন। সাদা পোশাকেও বিশেষ টিম নিরাপত্তায় কাজ শুরু করেছেন। ফলে নিরাপদ পরিবেশে এ মেলা পুরোপুরি জমে উঠবে।


ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার গেটের ইজারাদার মের্সাস আবদুল্লাহ এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, এ বাণিজ্য মেলা দেখতে আমাদের ঢাকায় যেতে হতো। আর এ মেলা এখন আমাদের রূপগঞ্জে হচ্ছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

 

মেলা খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। তবে ছুটির দিনে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আশা করছি এবছর মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা গতবারের তুলনায় দ্বিগুণ হবে।


বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন উপলক্ষ্যে রূপগঞ্জ উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।


রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) বলেন, বাণিজ্য মেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসায়িক অংশীদার সৃষ্টি হবে। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা-২০২৩ আমাদের সক্ষমতার বার্তা আরও জোরালোভাবে পৌঁছে দেবে। 


এই মেলার ফলে পণ্যের চাহিদা জানা ও সে আলোকে পণ্য তৈরি ও বাজারজাতকরণের আইডিয়া পাওয়া যাবে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এ মেলা রূপগঞ্জের পূর্বাচলে হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।


উল্লেখ্য, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে মেলার আসর বসেছে রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে। এরপর গত বছর ২০২২ সালে নতুন ঠিকানায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচল নতুন শহরে ২৬তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

 

মেলা উপলক্ষে পূর্বাচল নতুন শহরে নির্মিত হয় বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ মেলার উদ্বোধন করেন।
 

সম্পর্কিত বিষয়: