নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার হরিহরপাড়া চাঁদনী হাউজিং এলাকায় ঝুট (ওয়েস্টিজ) মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) ফতুল্লা মডেল থানায় গুলিবিদ্ধ রাকিবুল হাসান রাকিবের পিতা ও বিএনপি নেতা মো. হোসেন খোকা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চাঁদনী হাউজিং এলাকার একটি গার্মেন্টস কারখানায় ঝুট মালামাল নামানোকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে স্থানীয় কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধই গত ৯ এপ্রিল সহিংস রূপ নেয়।
সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গার্মেন্টসের সামনে লোকজন জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বাদী। এ সময় সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা পিস্তল, চাপাতি, রামদা, ছোরা, চাকু, লোহার রড ও লাঠিসহ ককটেল নিয়ে বাদীকে ঘিরে ফেলে। তাকে টানা-হেঁচড়া করে মারধরের পাশাপাশি পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অভিযুক্তরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, সাধারণ মানুষ নিরাপত্তার জন্য দিকবিদিক ছুটতে থাকে।
হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রাকিবুল হাসান রাকিব (২৩)। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হলে তার বুকের ডান পাশে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনায় ইমরান (১৩) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীও গুলিবিদ্ধ হয়। পরে স্বজনরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, সারজিল আহম্মেদ অভি, আব্দুল হামিদ প্রধান, আব্দুস সালাম, আকাশ, সুমন মোল্লা রকেট, খায়রুল কবির জসিম, ইয়াসিন, মশিউর রহমান রনি, আলী রতন, মুরাদ হাসান, আদনান আজিজ প্রাপ্ত ও পল্লব।
বাদীর অভিযোগ, গার্মেন্টস থেকে ঝুট মালামাল নামানোর নিয়ন্ত্রণ নিতে না পেরে অভিযুক্তরা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি এবং মালিকপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে এই হামলা চালায়।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠায়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, ঘটনার পর উভয় পক্ষ থেকেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি ফতুল্লা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঝুট ব্যবসা ঘিরে বারবার এমন সহিংসতা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


































