নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

২৭ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের অভিযান, সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৮:০৬, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরে জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বাড়িতে  পল্লী বিদ্যুতের অভিযান, সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াত সমর্থিত কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সুমন রহমানের বাড়িতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। অভিযানে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরে ওই বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

 

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে বন্দরের রামনগর এলাকায় সুমন রহমানের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মদনপুর জোনাল অফিসের কর্মকর্তারা এ অভিযান পরিচালনা করেন।

 

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মদনপুর জোনাল অফিসের প্রকৌশলী সাইদুর রহমান জানান, সুমন রহমানের বাড়িতে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি হাতেনাতে ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

 

অবৈধ সংযোগ কতদিন ধরে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং কী পরিমাণ জরিমানা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিটারের রিডিং পরীক্ষা করে বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে। এরপর রিডিংয়ের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী জরিমানা ধার্য করা হবে।

 

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে সুমন রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর ভাই মিজানুর রহমান বন্দর থানা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর সুমন রহমান জামায়াতের ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করে কাউন্সিলর পদে প্রচারণা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগেই তাঁর বাড়িতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের ভাষ্য, একজন জনপ্রতিনিধি প্রার্থীর কাছ থেকে আইন মেনে চলার প্রত্যাশা করেন তাঁরা। নিজের বাড়িতেই যদি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের স্বার্থ কতটা রক্ষা করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সুমন রহমান। তিনি বলেন, “আমরা কোনো অবৈধ সংযোগ চালাইনি। পাশের ভবনের তার ছিঁড়ে গিয়েছিল। পরে সেটি জোড়া দিয়ে লাইন ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ এসে সংযোগ কেটে দিয়েছে। আমি মিটারের যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানিয়েছি।”

 

এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের পরবর্তী তদন্ত ও মিটার রিডিং যাচাইয়ের পর জরিমানার বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানা যাবে।