একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে উদ্দেশ করে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর দেওয়া একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া ওই পোস্টে টিপু নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তাকে নিয়ে মন্তব্য করার আগে "মুখ সামলে কথা বলার" আহ্বান জানান।
পোস্টে টিপু লেখেন, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী যেন নিজেকে "বড় জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান" না ভাবেন। বড়দের সঙ্গে বেয়াদবি করে সাময়িকভাবে আলোচনায় আসা গেলেও রাজনৈতিক গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনা করা "হাস্যকর"। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারেক রহমানকে বিদেশে থেকেই রাজনীতি করতে হয়েছে। একই সময়ে তিনি চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন এবং সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
দীর্ঘ ওই স্ট্যাটাসে টিপু আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় লন্ডন থেকে তারেক রহমান পরিকল্পনা, দিকনির্দেশনা ও সাহস জুগিয়েছেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে সমন্বয়কদের গ্রেপ্তারের পর আন্দোলন যখন গতি হারাতে শুরু করেছিল, তখন তার নির্দেশনা ও যোগাযোগে আন্দোলন নতুন করে শক্তি ফিরে পায়। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের রাজপথে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রেও তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া টিপু দাবি করেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতার মাধ্যমে তারেক রহমান আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পেছনে "মাস্টারমাইন্ড" হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। ভারতের বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার তুলনা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর উদ্দেশে টিপু কড়া ভাষায় লেখেন, তারেক রহমানকে নিয়ে কথা বলতে হলে বুঝেশুনে বলতে হবে। অন্যথায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কর্মী-সমর্থকেরা চুপ করে বসে থাকবে না।
টিপুর এই পোস্ট প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।


































