নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বুধবার,

১০ আগস্ট ২০২২

সোনারগাঁয়ে এবার ৩০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির টার্গেট

নুসরাত জাহান সুপ্তি

প্রকাশিত:২১:১১, ২১ মে ২০২২

সোনারগাঁয়ে এবার ৩০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির টার্গেট

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর ও পানাম সিটির জন্য দেশজুড়ে বেশ সুপরিচিত। তবে এর সাথে যুক্ত হয়েছে সোনারগায়ের লিচু। মিষ্টি রসে ভরপুর, সুঘ্রাণ ও বড় আকৃতির এই লিচু মধু মাসের প্রথম মৌসুমেই বাজারে উঠে বিধায় এই লিচুর চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সোনারগায়েঁ লিচুর দ্বিগুণ ফলন হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর প্রায় ৩০ কোটি টাকার লিচু বিক্রির টার্গেট করছেন চাষিরা।

 


সোনারগাঁ কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁয়ের ৬৬৫টি বাগানে লিচু চাষ হয়েছে। পুরো উপজেলার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। যেখানে প্রতি হেক্টর জমিতে লিচুর ফলন হয়েছে প্রায় ৭ মেট্রিক টন। সোনারগাঁ পৌরসভা, বৈদ্যেরবাজার, মোগরাপাড়া, পানাম, বারদি, সাদিপুর ও গাবতলী এলাকায় সর্বাধিক লিচুর চাষ হয়েছে। 

 


স্থানীয় চাষিরা জানান, সোনারগাঁয়ে বর্তমানে পাঁচ প্রজাতির লিচু হয়। কদমি, পাতি, চায়না-৩, মোজাফফরপুরী, ও এলাচির লিচুর চাষ হলেও সর্বাধিক চাহিদা রয়েছে কদমি লিচুর। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছর প্রতিটি বাগান ৩-৪ লাখ টাকায় পাইকারী লিচু বিক্রেতার কাছে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়াও ভাল ফলন পাওয়ার আশায় চাষিরা বাড়ির আঙিনায় ও বাড়ির পাশের জমিতেও লিচুর চাষ করছেন। বাজারে একশ কদমি লিচু ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি একশ পাতি ও এলাচি লিচু ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।  

 


সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার এলাকার একাধিক বাগানের প্রবেশপথের শুরুতেই দেখা মিলে সারি সারি লিচু গাছ। গাছের থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল ও গোলাপি রঙের হাজার হাজার লিচু। লিচু আহরণ করে আঁটি বাধছে চাষীরা। এপ্রিল মাসের শেষ থেকেই শুরু হয়েছে লিচু আহরণের কাজ। বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা লিচু কেনার জন্য ভীড় করছে বাগানগুলোতে। আরও কিছু দিন ধরে লিচুর বিক্রি হবে। এদিকে পাইকারী ক্রেতার পাশাপাশি খুচরা মূল্যে লিচু ক্রয় সহ লিচু বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন শত শত মানুষ। 
 
  
সিদ্ধিরগঞ্জেরসাইনবোর্ড থেকে বন্ধুদের সাথে লিচু কিনতে এসেছেন আলআমিন। তিনি বলেন, লিচু বাগান থেকে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে অন্যরকম আনন্দ রয়েছে। আর এখানের লিচু গুলো দেখতেও খুব সুন্দর। লিচু বাগানে ঢুকতেই লিচরু ঘ্রাণে মন ভালো হয়ে যায়। দেখতেও বেশ লোভনীয়। আর বাগানে এসে নিলে বাজারের তুলনায় কম দামে ভালো লিচু পাওয়া যায়। এজন্যই এতো দূর থেকে এসেছি।  


 
 
কথিত আছে, ‘যার বাড়িতে আছে লিচু, তার থাকে না কিছু’। একসময় এ ধরনের নানা কুসংস্কারের প্রচার থাকায় অনেক মানুষ লিচুর চাষ থেকে বিরত থাকলেও এখন কুসংস্কারের ধুম্রজাল কাটিয়ে মানুষ লিচু চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। লিচু চাষে ভাগ্য ফিরেছে অনেকের। এ কারণে এই উপজেলার তরুণরাও লিচু চাষে ঝুঁকছে।
 

 


লিচু চাষে সফলতা পেয়ে তরুণচাষি সাইফুল বলেন, সোনারগাঁয়ের আবহাওয়া লিচু চাষের জন্য উপযোগী। একসময় নিজেদের খাওয়ার জন্য আমাদের বাসায় লিচু গাছ লাগানো হয়েছিল। কিন্তু নিজেরা খেয়ে অতিরিক্ত লিচু বিক্রি করে বেশ ভালো লাভ হতো। এই কারণেই বাড়ির সামনের জমিতে লিচু গাছ লাগিয়েছি। গত দুই বছর ভালো ফলন না হলেও এবার আমার গাছে বেশ ভালো ফলন হয়েছে। 

 


স্থানীয় চাষি শাহজাহান বলেন, এবছর লিচুর ভালো ফলন হয়েছে। বাজারে আমাদের লিচু অন্যান্য জেলার লিচুর আগেই চলে আসে এজন্য দাম ভালো পাওয়া যায়। সবচেয়ে ভালো দাম পাওয়া যায়  কদমি লিচুর। 


 
সোনারগাঁ উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষি অফিসার মনিরা আক্তার এ বিষয়ে বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। পুরো উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে লিচু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ৭ মেট্টিক টন লিচু উৎপাদিত হয়েছে। যা থেকে চাষিদের  প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটির টাকার লিচু বিক্রি করতে পারার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলের চাষিরাদের প্রশিক্ষিত করার জন্য আমাদের কোন প্রকল্প নেই। তবে আমরা চাষিদের প্রয়োজনে গাছের যতœ সহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকি। 

সম্পর্কিত বিষয়: