নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শামীম ওসমানদের ছোড়া গুলি পায়ে লাগে, না:গঞ্জে চিকিৎসা হয়নি: সাক্ষীর জবানবন্দি

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২০:১৪, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শামীম ওসমানদের ছোড়া গুলি পায়ে লাগে, না:গঞ্জে চিকিৎসা হয়নি: সাক্ষীর জবানবন্দি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ কাউসার আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ দেওয়া জবানবন্দিতে কাউসার আহমেদ অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের সময় শামীম ওসমান ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। তাঁর বাঁ পায়ে গুলি লাগে বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

কাউসার জানান, আহত অবস্থায় তাঁকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে সেখানে তিনি চিকিৎসা পাননি। তাঁর দাবি, শামীম ওসমানের নির্দেশে চিকিৎসা না দেওয়ায় তাঁকে পরে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৮ আগস্ট অস্ত্রোপচার করে তাঁর পা থেকে গুলি বের করা হয়।

কাউসার আহমেদ গেজেটভুক্ত ‘গ’ শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধা এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে তাঁর জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাষাঢ়ায় হামলার বর্ণনা

জবানবন্দিতে কাউসার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি চাষাঢ়া মোড়ে আন্দোলনে যোগ দেন। বেলা পৌনে ২টার দিকে চাষাঢ়ায় শামীম ওসমানের বাড়ির সামনে ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল, টিপু, দিপু ও সাইদ ছিলেন। তাঁদের হাতে দেশি-বিদেশি অস্ত্র ছিল বলেও জবানবন্দিতে দাবি করেন তিনি।

কাউসার বলেন, ওই সময় হামলাকারীদের ছোড়া একটি গুলি তাঁর বাঁ পায়ে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। পরে তাঁকে কে বা কারা খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান।

মিটফোর্ডে অস্ত্রোপচার

কাউসারের দাবি, খানপুর হাসপাতালে নেওয়ার পরও তিনি চিকিৎসা পাননি। পরে তাঁকে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ৮ আগস্ট অস্ত্রোপচার করে পা থেকে গুলি বের করা হয়।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে এই মামলার আসামিদের গুলিতে আরও অনেকে আহত হন। ওই দিন সুজন নামে একজন নিহত হন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর বাড়ি বন্দরে বলে জানান কাউসার।

‘দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান’ কাউসার

জবানবন্দিতে কাউসার অভিযোগ করেন, শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জের ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে থাকা সশস্ত্র ব্যক্তিরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু মানুষকে হতাহত করেন।

তিনি বলেন, তাঁকে গুলি করে আহত করা এবং আন্দোলনকারীদের হতাহত করার ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

মামলার বিচারিক অগ্রগতি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই এবং ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া, ফতুল্লা ও সাইনবোর্ড এলাকায় পৃথক ঘটনায় মোট ১০ জন নিহত হন।

১৩ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল থাকে।

মামলার ১২ আসামিই বর্তমানে পলাতক বলে আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিরা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, তানভীর আহমেদ টিটু, রাজু আহমেদ, আব্দুল করিম বাবু, কামরুল হাসান মুন্না, শাহ নিজাম, শাহাদাত হোসেন সাজনু, হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর মামলায় নিহত পোশাককর্মী রাসেলের বাবা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। ১০ সেপ্টেম্বর কাউসার আহমেদের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্যপর্বে নারায়ণগঞ্জের জুলাই-আগস্টের সহিংসতার আরও একটি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে।