নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দর রেলগেইট জামে মসজিদের ৫ কোটি টাকার হিসাব চায় মুসল্লিরা

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২০:৪১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দর রেলগেইট জামে মসজিদের  ৫ কোটি টাকার হিসাব চায় মুসল্লিরা

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের রেলগেইট কলাবাগ জামে মসজিদে কমিটি গঠন ও দীর্ঘ ২৩ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে সাধারণ মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মসজিদের দানবাক্স, অনুদান ও মার্কেট থেকে দীর্ঘ সময়ে আয় হওয়া প্রায় ৫ কোটি টাকার হিসাব চেয়েছেন মুসল্লিরা।

 

স্থানীয় সূত্র ও মুসল্লিদের অভিযোগ, ২০০০ সালের পর থেকে প্রায় ২৩ বছর মসজিদটি একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই সময় কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রয়াত হাজী শফিউদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মোসলেউদ্দিন মাস্টার। সহ-সভাপতি হিসেবে রফিকুল ইসলাম ও পিয়ার জাহান কমল এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রিপন ভূঁইয়া দায়িত্ব পালন করেন।

 

মুসল্লিদের দাবি, দীর্ঘ সময়ে মসজিদের দানবাক্স, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদ মালিকানাধীন মার্কেট থেকে আনুমানিক ৫ কোটি টাকার বেশি আয় হয়েছে। তবে নতুন আহ্বায়ক কমিটির কাছে সাবেক কমিটির পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের হিসাব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

 

এদিকে, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মসজিদে নিরপেক্ষ ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় বলে জানা গেছে।

 

মুসল্লিদের অভিযোগ, নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ পুরোনো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা রফিকুল ইসলামকে সভাপতি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি পিয়ার জাহান কমলকে সাধারণ সম্পাদক করার একটি প্যানেল তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

এছাড়া মসজিদের মালিকানাধীন ছয়টি দোকানের মধ্যে তিনটি দোকান বিগত সময়ে প্রভাব খাটিয়ে একটি পরিবারের সদস্যরা ভোগদখলে রেখেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

 

মুসল্লিদের দাবি, মসজিদ পরিচালনায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা বিতর্কিত ব্যক্তির সম্পৃক্ততা না রেখে এলাকার সৎ, ধর্মপ্রাণ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে উন্মুক্ত সভার মাধ্যমে গত ২৩ বছরের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, মসজিদ কমিটির দায়িত্ব কোনো সামাজিক মর্যাদা বা নেতৃত্বের বিষয় নয়; এটি আল্লাহর ঘর ও মুসল্লিদের খেদমতের দায়িত্ব। তাই রাজনৈতিক, আর্থিক কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে মসজিদ পরিচালনায় দায়িত্বশীল ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

সম্পর্কিত বিষয়: