সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইচ্যাটে পরিচয়। এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। সেই প্রেমের টানেই সুদূর চীন থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এসেছেন ২৯ বছর বয়সী চীনা নাগরিক হুয়াং ঝিলিন। তবে বাংলাদেশে আসার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো বিয়ে না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল।
হুয়াং ঝিলিন চীনের জিয়াংশি প্রদেশের বাসিন্দা। প্রায় এক মাস আগে উইচ্যাটে পরিচয় হয় রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার খাপাড়া এলাকার শরীফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া বেগমের সঙ্গে। নিয়মিত কথাবার্তার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর সম্পর্ককে বিয়েতে রূপ দিতে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চীন থেকে রূপগঞ্জে আসেন ঝিলিন।
প্রথমে তিনি সুমাইয়াদের এলাকার সেলিম মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় অবস্থান নেন। চীন থেকে একজন যুবক সুমাইয়ার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবারের পক্ষ থেকে সুমাইয়া ও ঝিলিনকে জাঙ্গীর ফকিরবাড়ি এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দুজনের ভাষা ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি কথোপকথনেও রয়েছে কিছুটা সমস্যা। ঝিলিন বাংলা বা ইংরেজি জানেন না, অন্যদিকে সুমাইয়াও চীনা ভাষায় কথা বলতে পারেন না। তাই মোবাইল ফোনের ট্রান্সলেটর অ্যাপ ব্যবহার করে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, ‘চীন থেকে একজন যুবক এসে সুমাইয়ার সঙ্গে অবস্থান করছেন—এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। বিয়ে এখনো না হওয়ায় মানুষের কৌতূহলও বেড়েছে। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
সুমাইয়ার বাবা শরীফ মিয়া বলেন, ‘বিয়েতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে ছেলের পরিবারের সম্মতি নেওয়া এবং নিজেদের পারিবারিক প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে। এসব কারণে কিছুটা সময় লাগছে।’ তিনি আরও জানান, ভাষাগত সমস্যা থাকলেও দুজন অনুবাদ অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করছেন।
এদিকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসার পর রূপগঞ্জ থানা পুলিশও বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোক্তার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমাদের জানা ছিল না। আমরা দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি দেখছি।’
এদিকে মাত্র এক মাসের পরিচয় থেকে গড়ে ওঠা এই প্রেমের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়াবে কি না—তা নিয়েই এখন কৌতূহল স্থানীয়দের মধ্যে। তবে দুই পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়েতে আপত্তি না থাকার কথা জানানো হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ হয়নি।


































