নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বুধবার,

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দরে জমি নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ: পিবিআই ও সিআইডি’র তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত ৫ জন

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২১:১৩, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্দরে জমি নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ: পিবিআই ও সিআইডি’র তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত ৫ জন

নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন হারন্দী মৌজার জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে দায়ের করা একটি সিআর পিটিশন মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে।

 পিবিআই ও সিআইডি নারায়ণগঞ্জ-এর পৃথক তদন্তে সাজানো মারধর, প্রতারণা ও প্রাণনাশের হুমকির কোনো সত্যতা না পাওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে আসামীদের অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

মামলা ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, হারন্দী মৌজার জমি নিয়ে বিজ্ঞ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৬, নারায়ণগঞ্জে একটি সিআর পিটিশন মামলা (নং- ২৮৮/২০২৪) দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জ সদরের দেওভোগ পালপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. শরীফ হোসেন (৬৪)। মামলায় লৌহজং থানার গাঁওদিয়া এলাকার মোঃ শাহীন (৪০) ও মো. শামীম (৪৬), বন্দরের কল্যান্দী এলাকার আঃ রশিদ (৬৫) ও কবির মিয়া (৩২) এবং রুস্তমপুর এলাকার মোঃ আল আমিন (৩৫)-সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬(২) ধারায় মারধর, প্রতারণা ও হুমকির অভিযোগ আনা হয়েছিল।

আদালতের নির্দেশনায় পিবিআই ও সিআইডি নারায়ণগঞ্জ নিরপেক্ষ সাক্ষী, স্থানীয় বাসিন্দা, দলিল লেখক এবং মামলার নথিপত্র দীর্ঘ পর্যালোচনা ও সরেজমিন অনুসন্ধান চালায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, বন্দর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে 'হাত বায়না' বা মৌখিক বায়নার মাধ্যমে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের একটি ঐতিহ্যগত নিয়ম রয়েছে। বাদী মোঃ শরীফ হোসেন তাঁর পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে বিবাদীদের সাথে আলোচনা করে ১৯ লাখ টাকা নগদ হাত বায়না গ্রহণ করেন এবং জমিতে বিবাদীদের দখল বুঝিয়ে দেন। বিবাদীরা সেখানে দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছন্দে চাষাবাদ ও ভোগদখলে আছেন। পরবর্তীতে জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাদীপক্ষ চুক্তি ভেঙে অন্যত্র জমি বিক্রয়ের অপচেষ্টা চালায় এবং দেওয়ানী আদালতে মামলা দায়ের করে। 

একই সঙ্গে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিবাদীদের বিরুদ্ধে মারধর, প্রতারণা ও কাল্পনিক অভিযোগ এনে এই মামলাটি দায়ের করেন।

তদন্তকালে পিবিআই ও সিআইডি সরেজমিনে নিরপেক্ষ সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দলিল লেখকরা জানান, বিবাদীরা এলাকায় বিশ্বস্ততার সাথে হাত বায়নার ব্যবসা করে আসছেন এবং ঘটনার দিন কোনো হামলা বা হুমকির ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া বাদীপক্ষ অভিযোগের সপক্ষে কোনো ডাক্তারি সনদ, ভিডিও ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারেনি।

সার্বিক তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, উভয় পক্ষের মধ্যে মূলত দেওয়ানী সংক্রান্ত বিরোধ চলমান। বাদীপক্ষ বিবাদীদের হয়রানি করতেই এই মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছিলেন। আনীত অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় ১ থেকে ৫ নম্বর আসামীদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়: