জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর পূর্তিতে সকল শহীদদের স্মরণ, জুলাই গণহত্যার বিচার, আহতদের পূনর্বাসন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার “জুলাই শিখা প্রজ্বলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে টায় চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলার উদ্যোগে ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ জুলফিকার আহমেদ শাকিলসহ সকল বীর শহীদদের স্বরণে জুলাই শিখা প্রজ্বলন কর্মসূচি আয়োজন করে। জেলা ছাত্র ফেডারেশন-এর সাধারণ সম্পাদক ছাত্রনেতা সৌরভ সেনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাত্রনেতা সৃজয় সাহা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্র ফেডারেশন-এর সহ- সভাপতি ইউশা ইসলাম, তাইরান আবাবিল রোজা, সহ-সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব রায়, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্ত শেখ, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক অনামিকা চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রাইসা ইসলাম, সরকারি তোলারাম কলেজ শাখার সদস্য সচিব মুন্নী আক্তার প্রত্যাশা, সদস্য সিয়াম সরকার, নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার আহবায়ক মৌমিতা নূর, যুগ্ম আহবায়ক শেখ সাদী, সদস্য সচিব তাহমিদ আনোয়ার, সিদ্দিরগঞ্জ থানার আহবায়ক শাহীন মৃধা, সদস্য সচিব তাওহিদ আহমেদ তাজবীর, সংগঠক মোঃ সোহাগসহ বিভিন্ন শাখা-অঞ্চলের নেতৃবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে, নারায়ণগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছাত্রনেতা সৃজয় সাহা বলেন, ৪ আগস্ট আজকের এই দিনটি আমাদের দেশের ইতিহাসে যেমন একটি রক্তঝরা অধ্যায়, তেমনি আমাদের প্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ইতিহাসেও একটি বেদনাদায়ক গর্বের দিন। সারা দেশের রাজপথ যেদিন স্বৈরাচারের বুলেটের শব্দে কেঁপে উঠেছিল, সেই ৪ আগস্টেই ঢাকার রাজপথে স্বৈরাচারের ঘাতক বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন আমাদের সহযোদ্ধা—বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আহমেদ শাকিল।
আজ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার পতন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু আজ আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত ও ক্ষুব্ধ হৃদয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি।যে স্বপ্নের জন্য শাকিল, আবু সাইদ, মুগ্ধ, আদিল প্রাণ দিল, যে রক্ত হাজারো ছাত্র-জনতা ঝরালো, সেই রক্তের মর্যাদা কি এই রাষ্ট্র রক্ষা করতে পেরেছে?
পারেনি!
আজও গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হয়নি: শত শত ছাত্র-জনতাকে যারা পাখির মতো গুলি করে হত্যা করল, যাদের নির্দেশে রাজপথে রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া হলো—সেই ঘাতকদের, সেই স্বৈরাচারী দোসকদের বিচার প্রক্রিয়া আজও থমকে আছে। নারায়ণগঞ্জের গডফাদার খ্যাত শামিম ওসমান যার নির্দেশে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ রক্তাক্ত হয়েছে, সেই স্বৈরাচার শেখ হাছিনা যার নির্দেশে সারা দেশে গণহত্যা চালানো হলো তারা দেশের বাইরে নিজেদের বিলাশবহুল জীবন জাপন করছেন অথচ আমার দেশের শহিদ পরিবারের সদস্যরা একবেলা খাবারের জন্যও তাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। আজ এই জুলাই শিখা প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—প্রতিটি হত্যার হিসাব এই রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।
লড়াই এখনো শেষ হয়নি। স্বৈরাচারের পতন একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি মাত্র, নতুন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লড়াই আরো বহু দূর বাকি। শাকিল, সাইদ, মুগ্ধ সহ হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয় আমরা যদি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাই, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
শাকিল সহ হাজারো শহীদদের রক্তের ঋণ আমরা কোনোদিন শোধ করতে পারবো না, যদি না আমরা তাদের কাঙ্ক্ষিত বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।


































