নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

২২ আগস্ট ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগে ইকবালের তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২২:৪৬, ২২ আগস্ট ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে জমি দখলের অভিযোগে  ইকবালের তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় ৩০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি জবরদখল ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. মোস্তফা (৭৫), পলাশ (৪৫), ফারুক (৫০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. শাহাদাত হোসেন সানু (৬২) নামে এক ব্যক্তি।

 

শুক্রবার (২২ আগস্ট) সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে শাহাদাত হোসেন সানু উল্লেখ করেন, সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজার জে.এল. নং-৪, এস.এ-২৮৪ ও আর.এস-৫৪০ নম্বর দাগে থাকা সম্পত্তির মধ্যে তিনি ১৯৯৬ সালের ৭ ডিসেম্বর গুলজার হোসেনের কাছ থেকে ৭ শতাংশ এবং ১৯৯৯ সালের ১৭ মে রাবেয়ার কাছ থেকে ৮০ পয়েন্ট জমি ক্রয় করেন। এরপর থেকে প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগে দাবি করেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, ক্রয়কৃত সম্পত্তি ফাঁকা থাকায় মোস্তফা নামে এক ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে জমিটি জবরদখল ও অন্যত্র বিক্রির চেষ্টা করে আসছিলেন। এ বিষয়ে গত বছরের ২৫ জুন বিকেল ৫টার দিকে পাইনাদী দনুহাজী বাড়ি এলাকায় মোস্তফার সঙ্গে কথা বললে তিনি শাহাদাতকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি সুযোগমতো প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

শাহাদাতের অভিযোগ, সর্বশেষ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে মোস্তফার ইন্ধনে পলাশ ও ফারুক নামে দুই ব্যক্তি তার জমিতে জোরপূর্বক সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে অভিযুক্তরা দাবি করেন, মোস্তফার কাছ থেকে তারা ওই জমি বায়না করেছেন।

 

অভিযোগকারী আরও জানান, তার জমির পশ্চিম ও উত্তর পাশে নিজ অর্থায়নে নির্মিত ১০ ইঞ্চি পুরু সীমানা প্রাচীর আগে থেকেই ছিল। অভিযুক্তরা ওই দেয়ালের ওপর নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করলে তিনি তাদের কাছে জমি বায়নার বিষয়ে জানতে চান। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে প্রাণনাশের চেষ্টা ও হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

শাহাদাত হোসেন সানুর দাবি, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে তার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন। তাদের হুমকি ও কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

 

লিখিত অভিযোগে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে জমিতে জবরদখল ও অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

সোনারগাঁয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির দুই ভাই বহিস্কার

 

সোনারগাঁয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির দুই নেতাকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

 

বহিষ্কৃত নেতারা হলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ এবং তার ভাই উপজেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দেশক্রমে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মীদের বহিষ্কৃত দুই নেতার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তারা ভবিষ্যতে দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে কিংবা কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিল দুই সহোদর। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি উপজেলার আষাঢ়িয়ারচর এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং বিএনপির দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

 

ঘটনার তিন দিন পর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দলের সুনাম ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন।

 

প্রসঙ্গত: বুধবার (১৯ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলার আষাড়িয়ারচর এলাকায় নিজেদের মধ্যকার আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিল এবং তাদের অনুসারীরা। সম্পর্কে তারা আপন দুই ভাই এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী এই দুই নেতার দীর্ঘদিনের রেষারেষিতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই সংঘর্ষের সময় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় ভাঙচুর করা হয় এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন।