সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট গ্যাস-জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত শিল্পকারখানাগুলোকে টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেএমইএর নারায়ণগঞ্জ জোনের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
সভায় সদস্যরা বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও রপ্তানি বাণিজ্যে মন্দার মধ্যে নতুন করে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় নিটওয়্যারসহ রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানাগুলো অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। প্রায় এক মাস ধরে গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর সরকারি পদক্ষেপের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে বিকেএমইএর মাধ্যমে দাবিগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে জরুরি ভিত্তিতে তুলে ধরে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
বিকেএমইএর পাঁচ দফা দাবি
১. গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল কিস্তিতে পরিশোধ:
সংকটকালীন সময়ে নিয়মিত বকেয়ার পাশাপাশি জুন ও জুলাই মাসের গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল আগামী ১২ মাসে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দিতে হবে।
২. সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা:
সংকটকালীন সময়ে বকেয়া বিলের কারণে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা:
অবিলম্বে সব ধরনের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি সিস্টেম লস কমবে বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।
৪. ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ:
গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ছাড়া ব্যক্তিমালিকানাধীন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়।
৫. জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ:
সংকটের উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহের সর্বশেষ পরিস্থিতি জনগণ ও শিল্পোদ্যোক্তাদের জানাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় ব্যবসায়ীরা বলেন, নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করা হলে শিল্পোদ্যোক্তারা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করতে পারবেন। এতে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তিও কমবে।
এদিকে, জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্যের দুর্বল পরিস্থিতির কারণে অনেক কারখানা ঋণ পরিশোধে সক্ষমতা হারিয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়। এ অবস্থায় খেলাপি ঋণ ঘোষণার সময়সীমা বর্তমান ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।
তাদের মতে, জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধান এবং শিল্পবান্ধব নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে রপ্তানিমুখী শিল্পখাত আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে।


































