নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

০২ আগস্ট ২০২১

জুম্মানের টার্গেট প্রবাসীদের স্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২০:১০, ২৫ জুন ২০২১

জুম্মানের টার্গেট প্রবাসীদের স্ত্রী

বন্দরের ডিস ব্যবসায়ী জুম্মান প্রবাসীদের সুন্দরী স্ত্রীদের টার্গেট করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেয়। অর্থ না দিলে ব্ল্যাকমেইল এবং শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। পরে অনেকে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। মুন্নী এবং সাথীর সাথে এমনটাই ঘটেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। 

গত ২২ জুন কল্যান্দী থেকে পুলিশ মুন্নী বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করে। মুন্নী বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের জিধরা এলাকার মনির হোসেন মিয়ার মেয়ে। সে এক সন্তানের জননী। 

জানা যায়, বন্দরের ডিস ব্যবসায়ী জুম্মানের সাথে মুন্নীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জুম্মান মুন্নীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে দৈহিকভাবে নির্যাতন করেছে এবং তার জমানো লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মুন্নী যখন জানতে পারে প্রবাসীদের বউদের টার্গেট করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়া জুম্মানের ব্যবসা। তখন জুম্মনের কাছে টাকা চাইলে তাদের মাঝে দন্দের সৃষ্টি হয়। 

জুম্মান এর আগেও রোস্তমপুর এলাকার আমান মিয়ার মেয়ে প্রবাসীর স্ত্রী সাথী বেগমের সাথে পরকিয়া প্রেম করে এবং তার টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাকে নিয়ে কল্যান্দী গ্রামে একটি বাসায় ভাড়া থাকতো। সে মেয়ের সাথেও টাকা নিয়ে বিরোধ হয়। পরে সে স্বামীর টাকা জুম্মানকে দিয়ে নিস্ব হয়ে যাওয়ায় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। 

গৃহবধূ মুন্নী আত্মহত্যার ঘটনাটি রহস্যজনক। মুন্নীর ৬ বছরের শিশু ছেলে মো. মুসফিক জানায়, গত সোমবার রাতে তার মায়ের কাছে বন্দরের কল্যান্দী এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে জুম্মান এসেছিল এবং তার মায়ের সাথে ঝগড়া করে। সকালে পুলিশ মুন্নীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

 এ জুম্মান ১০/১২ দিন আগে মুন্নীকে কল্যান্দীতে আনোয়ার মিয়ার বাড়িতে জোর পূর্বক ঘর ভাড়া করে রাখে। বাড়ির মালিক জানায়, তিনি ভাড়া দিতে চাননি। জুম্মানের ভয়ে ভাড়া দিতে বাধ্য হয়। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডিস ব্যবসায়ী জুম্মান একজন চিহুত সন্ত্রাসী, ইয়াবা ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী ও মা তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন। জুম্মান একজন লম্পট। জুম্মান অস্ত্র প্রস্তুত ও বিক্রয়ের দায়ে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। এ মামলায় জেল খেটেছে বহুদিন। 

বর্তমানে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। এক সময় সে বিস্ফোরক দ্রব্যাদিও তৈরি করতো। বর্তমানে তার নামমাত্র যে ডিস ব্যবসা রয়েছে তা নিরীহ ব্যবসায়ী মৃত ছবির প্রধানের ছেলে মো. মনির হোসেনের। ভয় প্রদর্শন করে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয় জুম্মান। 
 

সম্পর্কিত বিষয়: