নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফতুল্লায় অপহৃত যুবক উদ্ধার, অপহরণ চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:১৯:৩৩, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ফতুল্লায় অপহৃত যুবক উদ্ধার, অপহরণ চক্রের সদস্য গ্রেপ্তার

ফতুল্লায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগে আবুল কালাম মুরাদ (৩৮) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ সময় তার কাছ থেকে দেশীয় তৈরি একটি ধারালো চাপাতি, একটি প্লাস ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। তবে অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা জুয়েল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানায়, অপহরণকারীদের কবল থেকে নির্যাতনের শিকার যুবক পারভেজ (৩০)-কে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের পর আহত অবস্থায় তাকে খানপুর হাসপাতাল-এ চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পুলিশ ফতুল্লা মডেল থানার মাসদাইর এলাকার রংপুর হাউজের সাততলা ভবনের ছাদে অবস্থিত জুয়েলের মালিকানাধীন একটি কক্ষে অভিযান চালায়। স্থানীয়ভাবে ওই কক্ষটি ‘টর্চার সেল’ হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকেই আহত অবস্থায় পারভেজকে উদ্ধার এবং আবুল কালাম মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে অপহৃত পারভেজের বোন শিখিল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার ভাইকে অপহরণ করে আটকে রেখে মারধরের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল।

পুলিশ আরও জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারী চক্রের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অভিযানের সময় জুয়েল পালিয়ে গেলেও তার সহযোগী মুরাদকে আটক করা সম্ভব হয়। অভিযানে ব্যবহৃত নির্যাতনের সরঞ্জাম হিসেবে একটি চাপাতি, একটি প্লাস ও একটি পাইপ উদ্ধার করা হয়।

অপহৃত যুবক পারভেজের বোন শিখিল জানান, তার ভাই পাগলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি দোকানে চাকরি করতেন। গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। 

পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার ভাইয়ের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয় যে, জুয়েল ও মুরাদ তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করছে এবং মুক্তিপণ দাবি করছে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ( ওসি) আব্দুল মান্নান জানান, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে দুদিন পূর্বে বিকেলে পাগলা এলাকা থেকে কৌশলে পারভেজ কে অপহরন করে মাসদাইরস্থ নিজ বাড়ীর সাত তলা ছাদের উপরে একটি রুমে নিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন সহ মুক্তিপণ দাবী করে। 

এ ঘটনায় অপহৃত যুবকের বোন বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের ৮ ঘন্টার ব্যবধানে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ অপহৃত যুবক কে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় একজনকে গ্রেফতার করে। 

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানায় মামলা হয়েছে। জড়িত অপর আসামীদের গ্রেফতারের চেস্টা করছে পুলিশ।
 

সম্পর্কিত বিষয়: