ফতুল্লার কাশিপুরে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছাপিয়ে স্থানীয় নারীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম রাসেল ওরফে জিলানী।
ঘটনাটি জানাজানি হলে সোমবার কাশিপুর ইউনিয়নের নরসিংপুর এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফ্যামিলি কার্ড কিনেও নির্ধারিত পণ্য না পেয়ে ভুক্তভোগীরা বিক্ষোভ করেন এবং অভিযুক্ত নেতার বাড়ি ঘেরাও করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাসেল ওরফে জিলানী মহানগর বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় রাজনীতি করেন। নির্বাচনের পরদিন থেকেই তিনি ও তার স্ত্রী নার্গিস (কিছু সূত্রে হাসিনা নামে পরিচিত) ‘জিসান ট্রেডার্স’ নাম ব্যবহার করে পবিত্র মাহে রমজান সামনে রেখে ফ্যামিলি কার্ড বিক্রি শুরু করেন।
প্রতিটি কার্ড ৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। কার্ডের শর্ত অনুযায়ী, মাসিক ১২৮৫ টাকার বিনিময়ে ১৭২৫ টাকার পণ্য পাওয়ার কথা বলা হয়। প্রায় ৩০০ পরিবারের কাছে এসব কার্ড বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কার্ড ক্রেতাদের অধিকাংশই নারী ও স্বল্পশিক্ষিত বলে স্থানীয়রা জানান।
সোমবার সকাল থেকে কার্ডের বিপরীতে প্রথম কিস্তির পণ্য দেওয়ার কথা থাকলেও দুপুর গড়িয়ে গেলেও কেউ পণ্য পাননি। ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে বিষয়টি প্রতারণা বলে বুঝতে পারেন ভুক্তভোগীরা। পরে তারা একত্রিত হয়ে অভিযুক্তের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন।
ফ্যামিলি কার্ড ক্রেতা জুলেখা বেগম বলেন, “আমাদের বলা হয়েছিল সরকারিভাবে কোম্পানির মাধ্যমে এসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সকাল ১০টা থেকে অপেক্ষা করছি। এখন ফোনও ধরছে না।”
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও এখনো এর বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। “
এর আগেই একটি প্রতারক চক্র ফ্যামিলি কার্ড ছাপিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। যারা জড়িত থাকুক না কেন, প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া,”বলেন তিনি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “স্থানীয় চেয়ারম্যান কার্ডগুলোকে নিজ জিম্মা নিয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি কে থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করা নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।”
































