নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

১১ আগস্ট ২০২৬

বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরণ: স্ত্রী-সন্তানের পর মাইদুলও চলে গেলেন, পরিবারে আর কেউ রইল না

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১১:০৯, ১১ আগস্ট ২০২৬

বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরণ: স্ত্রী-সন্তানের পর মাইদুলও চলে গেলেন, পরিবারে আর কেউ রইল না

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্যই একে একে মারা গেছেন। স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের পর এবার মারা গেলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মাইদুল ইসলাম (২৮)।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোরে রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইদুল ইসলাম মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান।

এর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল পৌনে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাইদুলের স্ত্রী বিউটি আক্তার (২৪)। আর গত শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাদের একমাত্র সন্তান আট বছরের মারুফ।

ফলে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় পরিবারটির তিন সদস্যই প্রাণ হারালেন। এখন ওই পরিবারের আর কেউ জীবিত নেই।

যেভাবে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

গত শুক্রবার ভোরে বন্দরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়িপাড়া চাপাতলী এলাকায় সালাউদ্দিনের টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির একটি কক্ষে স্ত্রী বিউটি আক্তার ও আট বছরের ছেলে মারুফকে নিয়ে থাকতেন রাজমিস্ত্রি মাইদুল ইসলাম।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, কাজের সুবাদে প্রায় এক বছর ধরে ওই টিনশেডের ঘরে ভাড়া থাকছিলেন নাটোরের বাসিন্দা মাইদুলের পরিবার।

বিস্ফোরণের পর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় মাইদুল, তাঁর স্ত্রী বিউটি ও ছেলে মারুফকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

কিন্তু চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মধ্যেও একে একে নিভে গেল তিনটি প্রাণ।

গ্যাস জমে বিস্ফোরণের প্রাথমিক ধারণা

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা ছিল, গ্যাসের লাইনে লিকেজ থেকে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ঘরের জানালা বন্ধ থাকায় গ্যাস বের হওয়ার সুযোগ না পেয়ে ভেতরে জমে যায়।

ভোরে মাইদুল ইসলাম সিগারেট ধরানোর সময় আগুনের সংস্পর্শে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।

একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই শেষ করে দিল একটি পুরো পরিবারকে। কর্মসূত্রে নারায়ণগঞ্জে এসে ভাড়া বাসায় বসবাস করা মাইদুল, তাঁর স্ত্রী বিউটি ও একমাত্র সন্তান মারুফ—তিনজনই এখন শুধুই স্মৃতি।