নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

২২ জুলাই ২০২৪

রুপগঞ্জে জমজমাট কোরবানি মাংসের হাট

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২২:৩০, ১৭ জুন ২০২৪

রুপগঞ্জে জমজমাট কোরবানি মাংসের হাট

সোমবার (১৭ জুন) সারা দেশে উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা।  সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের পর সামর্থ্যবানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি  অর্জনের জন্য পশু কোরবানি করেছেন।

তারা কোরবানির মাংসের একাংশ বিলিয়ে দিয়েছেন নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল মানুষদের মাঝে। সেই কোরবানি মাংস সংগ্রহ করে নিম্নবিত্ত ও অস্বচ্ছল মানুষগুলো একজায়গায় জড়ো হয়ে অর্থের চাহিদা মিটাতে প্রতিবছরই বিক্রি করে থাকেন।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতা গোলাকান্দাইল চৌরাস্তায়সহ সাওঘাট স্ট্যান্ডে বসেছে সেই ক্ষণস্থায়ী মাংসের হাট যা  কোরবানির মাংসের হাট নামে পরিচিত। এই হাটে দুপুর ৩টার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। এ হাট থেকে প্রয়োজন অনুসারে স্বাচ্ছন্দ্যে মাংস কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা। 

জানা যায়, প্রায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এ হাট বসে রূপগঞ্জের ভুলতা গোলাকান্দাইলসহ সাওঘাট স্ট্যান্ডে। এ ঈদে কোরবানির মাংসের একটি নির্দিষ্ট অংশ পেয়ে থাকেন সমাজের দুস্থ-অসহায় মানুষেরা। সেই মাংস থেকে কেউবা প্রয়োজনমতো রেখে দিচ্ছেন খাবারের জন্য, বাড়তি যে মাংস তা কেউ কেউ বিক্রি করে দিচ্ছেন আর্থিক জোগানের আশায়। 

কোরবানিদাতাদের কাছ থেকে পাওয়া এ সব মাংস নিয়ে ঈদের দিন বসে মাংসের হাট। মাংসের দাম কোথাও দাম একদম পানির মতো,  মধ্যসত্বভোগীর দৌরাত্ম্যের কারণে আবার কোথাও দাম চড়া। মাংসের প্রকারভেদে দাম কেজি প্রতি ২০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত।

আবার থলিতে করেও ভাগে ভাগে বিক্রি করছেন অনেকে। পরিমাণ অনুসারে ১২০০, ১৫০০, ১৮০০, ২৫০০, ৩৫০০ ও ৫০০০ হাজার টাকায় দর দিচ্ছেন বিক্রেতারা। দর কষাকষির পর তা কিনে নিচ্ছেন ক্রেতারা।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, আগের বছরগুলোতেও এ ধরনের মাংস সস্তায় কিনতে পারতেন নিম্নবিত্ত লোকজন। কিন্তু বেশ কয়েকবছর যাবত হাটে দালালদের আধিপত্য  থাকায় মাংসের দাম চলে গেছে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ঈদের দিন বিকেল থেকে এসব হাটে বেচাকেনা শুরু হয়ে চলে মধ্যরাত পর্যন্ত।

নিম্নবিত্ত শ্রেণির লোকজনসহ বেঁদে নারী পুরুষ যারা রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির মাংস সংগ্রহ করে এই হাটে বিক্রি করেন। যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই তারাই মূলত এ সব মাংসের ক্রেতা।

সরেজমিনে কোরবানির মাংসের হাট ঘুরে দেখা যায়, কুরবানি দেয়ার সামর্থ নেই, বেশি দাম দিয়ে মাংস কেনারও সামর্থ নেই এবং কারো বাড়ি থেকে গোশত চেয়ে নিতে সংকোচ বোধ করেন-এমন লোকজনই কম দামে মাংস কেনার জন্য এসব হাটে আসছেন। বিক্রেতারা ক্রেতাদের চাহিদামতো মাংস বিক্রি করতে সাথে মাংস মাপার মিটার সাথে রেখেছেন এবং হাঁকডাকে বিক্রি করছেন।

গোলাকান্দাইল চৌরাস্তায়  ৫ হাজার টাকা এক ব্যাগ মাংসের দাম  হাঁকাচ্ছেন আলী হোসেন । সাওঘাট এলাকায় ভাড়া থাকেন আমেনা ও রাজিব মিয়া এই দম্পতির মধ্যে স্বামী দিনমজুর ও স্ত্রী গার্মেন্টসে কাজ করেন।

তারা বিভিন্ন বসতবাড়িতে মাংস খুঁজেছেন দিনভর। সারাদিনের পাওয়া মাংস দুই ভাগে বিক্রি করতে এনেছেন তারা। এক ভাগ সাড়ে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এরপর শেষ ব্যাগের দাম হাঁকাচ্ছিলেন ৫ হাজারে।

আলী হোসেন বলেন, 'বেশি মাংসের প্রয়োজন নেই। টাকা পেলে কিছু ঋণ পরিশোধ করতে পারব। অল্প কিছু মাংস রেখেছি খাওয়ার জন্য। বাকিগুলো বিক্রি করতে এনেছি। 

বেঁদে সম্প্রদায়ের কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, ঈদের দিন সকাল সকাল আমরা মাংসের জন্য মানুুষের বাড়ি বাড়ি যাই। কত মানুুষ কত আজেবাজে কথা বলে। কি করবো পেটের দায়ে মানুুষের শত কথাও মনে ধরি না। সারাদিন বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে যা পাই তা এই হাটে বিক্রি করি প্রতিবছরই। এবারও আসছি।  একটু ভালো দাম পেলে সারাদিনের এত কষ্ট সব দুর হয়ে যাবে বলে জানান তারা।

হাটে মাংস কিনতে আসা হাবিবুর রহমান জানান, আমি রিকশা চালাই। আমার সামর্থ্য নাই কোরবানি দেয়ার। তবে সন্তানরা তো চায় ঈদে মাংস খেতে। সারাবছর মাংসের দাম চড়া থাকে সন্তানকে কিনে খাওয়াতে পারি না। তবে এ কোরবানির ঈদ আসলে এ মাংসের হাট থেকে প্রতিবছরই আমি মাংস কিনে সন্তানদেরকে  নিয়ে মাংস খাই। 

আনিসুল নামে এক ক্রেতা বলেন, আমার বাসা কিশোরগঞ্জ। আমি এবার ঈদে বাড়িতে যাইনি। এখানে ভাড়া থেকে কাজ করি। এই ঈদের দিন মাংস না খেলে ঈদের আনন্দই পাওয়া যায় না। বন্ধুদের কাছ থেকে শুনলাম এখানে মাংস পাওয়া যায়। তাই কিনতে এসেছি।

পুরো হাট ঘুরে দেখলাম যে মাংসটা ভালো তার দাম ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা বিক্রি করছে। গরুর তেল, গরুর লেজ ও মাথার মাংসগুলো পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। তবে আধা কেজি বিক্রি করা হয় না এই হাটে। তাই মাংস না কিনে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

আবু সাঈদ নামে আরেক ক্রেতা বলেন, এই হাট বসাতে আমরা ঈদে মাংস খাবার সুযোগ পাই। তবে এখানে দালালদের অনেক আনাগোনা থাকায় মাংস আমরা স্বাচ্ছন্দ্যে কিনতে পারি না।

সম্পর্কিত বিষয়: