নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্যাগী ও দীর্ঘদিনের রাজপথের কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনে নব্য ও প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির প্রাধান্য বৃদ্ধির ফলে দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করা নেতাকর্মীরা উপেক্ষিত হচ্ছেন।
দলের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে হামলা, মামলা, গ্রেপ্তার ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হওয়া অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী বর্তমানে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছেন না। তাদের অভিযোগ, নতুন কিছু মুখ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর নেতাদের প্রভাব বৃদ্ধির কারণে অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কর্মীরা পিছিয়ে পড়ছেন।
তাদের মতে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি এলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই গতিশীলতা কিছুটা কমে এসেছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে যে, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কয়েকজন সাবেক শীর্ষ নেতার বিভিন্ন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা থাকলেও বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
বন্দরের কয়েকজন বিএনপি নেতা দাবি করেন, দলের সাংগঠনিক শক্তি ও ঐক্য বজায় রাখতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।
তারা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং তার রাজনৈতিক সচিব, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাউসার আশার কাছে সাংগঠনিক বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।


































