নারায়ণগঞ্জের স্বনামধন্য ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চেইঞ্জেস স্কুলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বার্ষিক ফল উৎসব। বৃহস্পতিবার আয়োজিত দিনব্যাপী এ উৎসবে দেশীয় সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার অনন্য সমন্বয় দেখা যায়। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এই আয়োজনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অভিভাবক ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় দেশীয় ও মৌসুমি নানা ধরনের ফল সংগ্রহ করে নান্দনিক ও সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করে। রঙের বৈচিত্র্য, আকর্ষণীয় সাজসজ্জা এবং শিল্পসম্মত পরিবেশনায় প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ যেন একেকটি ফলের প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং দেশীয় কৃষি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এর সম্পর্কও তুলে ধরে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই চেইঞ্জেস স্কুল পাঠ্যবইয়ের বাইরে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে প্রতিবছর ফল উৎসবের আয়োজন করে আসছে। এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ, পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উৎসব চলাকালে বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন করেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নাসিমা বেগম। তিনি বলেন,
"চেইঞ্জেস স্কুল বিশ্বাস করে, একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশীয় সংস্কৃতি, নৈতিক মূল্যবোধ, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং বাস্তবজীবনের অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা নিশ্চিত হয়। তাই আমরা জাতীয় ও সাংস্কৃতিক দিবসগুলোর পাশাপাশি এমন ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষামূলক আয়োজন নিয়মিত করে থাকি। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশপ্রেম এবং আমাদের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
অনুষ্ঠানে গঠিত বিচারকমণ্ডলীতে ছিলেন অধ্যক্ষ নাসিমা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক ও একাডেমিক কমিটির সদস্য মুহাম্মদ হোসাইন এবং মুহাম্মদ শাহরিয়ার লিঙ্কন। তারা প্রতিটি শ্রেণির ফল প্রদর্শনী, উপস্থাপনার নান্দনিকতা, সৃজনশীলতা, পরিচ্ছন্নতা ও তথ্যসমৃদ্ধ পরিবেশনা মূল্যায়ন করেন। বিচারকদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন গ্রুপে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শ্রেণিগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়।
উৎসবে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক অভিভাবকের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। আনন্দ, উৎসাহ ও আন্তরিক অংশগ্রহণে ভরপুর এই ফল উৎসব শিক্ষার্থীদের সুস্থ জীবনধারা, দেশীয় ঐতিহ্য, পুষ্টি সচেতনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির শিক্ষা অর্জনের এক অনন্য আয়োজন হিসেবে সবার কাছে প্রশংসিত হয়।


































