নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শুক্রবার,

০৫ জুন ২০২৬

পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় আইভী

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২০:৫১, ৪ জুন ২০২৬

পুলিশের সিসি ক্যামেরার আওতায় আইভী

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ বাড়ি শহরের দেওভোগে চুনকা কুঠিয়ে অবস্থান করছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তবে তিনি পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন। এ জন্য চুনকা কুঠির ঘিরে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা। রয়েছে সাদা পোশাকে পুলিশের আনাগোনাও।

রাতেই পুলিশের তত্ত্বাবধানে আইভীর বাড়ির সামনে ও আশেপাশের সড়কে সিসি ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

এদিকে সিসি ক্যামেরার বিষয়ে জেলা পুলিশ বলছে, তাঁর (নাসিকের সাবেক মেয়র আইভী) ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং তিনি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন কিনা সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখতেই এ অতিরিক্ত নজরদারি।

 

সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমান বলেন, ‘এটি তাদের নিজস্ব বিষয়।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তাসহ সার্বিক কারণে লাগানো হয়েছে। নজরদারির বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে করা ১২টি মামলায় প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর বুধবার রাত ১০টার দিকে তিনি মুক্তি পান। এবং রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বাড়িতে পৌছান। ফেরার পথে তিনি নগরীর মাসদাইরে কেন্দ্রীয় সিটি কবরস্থানে বাবা, মা ও ভাইয়ের খবর জিয়ারত করেন। তবে তাঁর বাড়িতে আসার আগেই নিরাপত্তার স্বার্থে চুনকা কুঠিরের আসপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী সাংবাদিকদের জানান, সাদা পোশাকে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইভী জামিনে থাকাবস্থায় তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন কিন্তু নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সার্বিক বিষয়েই আমাদের নজরদারি থাকবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

 

এদিকে, আইভীর মুক্তির খবরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তার আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ জনরা চুনকা কুটিরে আসতে শুরু করেন। তবে আইভীর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রশাসনিক চাপ ও নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে আসা লোকজনের সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আইভীর খোঁজখবর নিতে আসছেন।

 

২০২৫ সালের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ের ৩টি হত্যা মামলা, ২টি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ মোট ১২টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তিনি একাধিকবার জামিন পেলেও নতুন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার দুই হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর তাঁর মুক্তির পথ খোলে।

 

প্রসঙ্গত: ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী। ওই সময় ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম সরদারকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। পরে ২০১১ সালের ৫ মে নারায়ণগঞ্জ, কদমরসুল ও সিদ্ধিরগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। এবং ওই বছরের ৩০ নভেম্বরের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী রাজনৈতিক শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০১৬ ও ২০২২ সালেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পান ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৮ আগস্ট সারাদেশের সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে আইভীকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।