কখনো ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশনের নামে অবৈধ ভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও পুলিশের ভয় ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি এবং প্রতারণা আবার কখনো সাংবাদিক পরিচয় দেয়া বহুল আলোচিত সুলতান মাহমুদ ওরফে ভেজাইল্লা সুলতান আটক হয়েছিল বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কার্যালয়ে। পরে ভবিষ্যতে আর অপসাংবাদিকতা করবেনা এমন মুচলেকায় সে ছাড়া পায়।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কার্যালয়ের এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সুলতান মাহমুদ ওরফে ভেজাইল্লা সুলতান ইতিপূর্বে নানা অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হযয়েছিল। জাতীয় ভেজাল প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জ শাখার সভাপতি পরিচয়দানকারী সুলতান মাহমুদ ওরফে ভেজাইল্লা সুলতান দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন শিল্প বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, কারখানা ও বিশিষ্টজনদের ব্লাকমেইল করে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অফিসারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বিব্রত করে বদলী করে দেয়ার হুমকী ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভেজাইল্লা সুলতান মাহমুদের রয়েছে একটি চিহ্নিত প্রতারক চক্র। কয়েকজন নারী পুরুষ কখনো সাংবাদিক কখনো প্রশাসনের লোক পরিচয়ে অপকর্ম করে বেড়ায়। সুলতান মাহমুদ নিজেকে কখনো বড় অফিসার আবার কখনো বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক এবং সম্পাদক পরিচয়ে অবৈধভাবে ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অপরাধ মূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
২০২৩ সালের ২১ আগষ্ট পুলিশের উপর হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় সুলতান ওরফে সুলতানের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের হয় সোনারগাঁও থানায়। এজাহারভুক্ত আসামি নং ৮১, মামলা নং ৩১। গত অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জে জ্বালাও পোড়াও ভাংচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর ডিবি পুলিশ অবশেষে সুলতান কে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। নারায়ণগঞ্জ সদর থানার নাশকতার মামলা নং ৩১(১০)২৩। ২০২১ সালের ৯ এপ্রিল সোনারগাঁও থানায় নাশকতার মামলা হয় সুলতানের বিরুদ্ধে। এজাহারভুক্ত আসামি নং ৬৩। মামলা নং ১৩। এছাড়াও সুলতানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
সোমবার দুপুরে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কার্যালয়ে সে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি তাকে চাঁদা না দিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলী করে দেয়াসহ নানা অসদাচরণ করে। পরে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান আনসার সদস্যদের খবর দিলে তারা এসে ভেজাইল্লা সুলতানকে আটক করে। এরপর খবর দেয়া হয় সদর মডেল থানা পুলিশকে। খবর পেয়ে সদর মডেল থানার এসআই কর্মকর্তা ওই কার্যালয়ে আসলে নিজেকে একটি পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দিয়ে ভুল স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে আর এ ধরনের আচরণ করবেনা মর্মে অঙ্গীকার (মুচলেকা) দেয়। অঙ্গীকারনামায় সুলতান মাহমুদ নিজের দোষ স্বীকার করে বলেন, আমি মোঃ সুলতান মাহমুদ, পিতা-চান মিয়া, মাতা-মোসাঃ জ্যোৎস্না বেগম, বয়স- ৫৩, মোবাইল-০১৯৩৭২৩০৩৫৮, এই মর্মে অঙ্গীকার করতেছি যে, আমি অদ্য ২০/০৭/২৬ ইং বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের বন্দর ভবনে সাংবিাদিকতার নিয়ম বহির্ভূত হয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অসদাচরণ করি। অদ্য ২০/০৭/২৬ ইং সকাল ১৪:৩০ ঘটিকায় বিআইডব্লিউটিএ এর কার্মকর্তা, কর্মচারী, বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে আমার নিয়ম বর্হিভূত কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থী। ভবিষ্যতে আমি আর কখনো এরকম অপসাংবাদিকতা করবো না বলে এই মর্মে অঙ্গীকার করিলাম। সুলতান সেই অঙ্গীকারনামা দেয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুলতান মাহমুদ নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থী হয়ে অঙ্গীকারনামা দেয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। তবে ভবিষ্যতে সে আবারো এ ধরনের কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


































