নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে জেলার গুরুত্বপূর্ণ চারটি দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেনের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদানকালে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ভবানী শংকর রায়, হাফিজুল ইসলাম, আবু নাইম খান বিপ্লব ও ধীমান সাহা জুয়েল।
স্মারকলিপিতে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
রেললাইন ধরে নির্মাণাধীন চাষাঢ়া মহিলা কলেজ সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণাংশ দেওভোগ সিটি পার্ক সংলগ্ন কাটা কাপড় মার্কেট থেকে শুরু করা।
১ নম্বর রেলগেট এলাকার রেলওয়ের জমি খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত পার্ক হিসেবে সংরক্ষণ করা।
খানপুর কন্টেইনার পোর্ট নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
চীনের সহায়তায় নির্মাণাধীন ২০টি হাসপাতালের তালিকায় নারায়ণগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দুই নম্বর রেলগেট থেকে চাষাঢ়া পর্যন্ত রেললাইনঘেঁষা সড়কের দক্ষিণাংশ যদি দেওভোগ নগরপার্ক সংলগ্ন কাটা কাপড় মার্কেট থেকে নির্মাণ করা হয়, তাহলে দেওভোগ, বাবুড়াইল, পাইকপাড়া, কাশীপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা সহজেই চাষাঢ়ায় যাতায়াত করতে পারবেন। একই সঙ্গে নিতাইগঞ্জ ও শীতলক্ষ্যা এলাকার যাত্রীরাও এ সড়ক ব্যবহার করতে পারবেন, ফলে বঙ্গবন্ধু সড়ক ও দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
এছাড়া ১ নম্বর রেলগেট এলাকার রেলওয়ের জমিতে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের পরিবর্তে সেটিকে খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত সবুজ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, নারায়ণগঞ্জ কলেজ ও একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এ ধরনের একটি মাঠ অত্যন্ত প্রয়োজন।
খানপুর কন্টেইনার পোর্ট প্রসঙ্গে বলা হয়, এটি নগরবাসীর জন্য ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় একটি প্রকল্প। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে ১৮৪ কোটি ৯১ লাখ ৫৭ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে। তাই প্রকল্পটি দ্রুত বাতিলের জন্য প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এছাড়া চীনের সহায়তায় দেশে নির্মাণাধীন ২০টি হাসপাতালের একটি নারায়ণগঞ্জে স্থাপনের দাবিও জানানো হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, জেলার বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের একটি আধুনিক হাসপাতাল অত্যন্ত প্রয়োজন।
স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন উত্থাপিত চারটি বিষয়কেই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সেগুলো বাস্তবায়নে যথাযথ ভূমিকা রাখার আশ্বাস দেন।


































