নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পূর্ব কলাবাগ এলাকায় চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারীসহ তিনজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শামীমা বেগম (৫৪) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শামীমা বেগম নাসিকের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কলাবাগ এলাকার বাসিন্দা। তিনি একই এলাকার আব্দুর রশিদ, রাসেল, জুয়েল, মহিউদ্দিন, সাকিব, রোহন, ফেরদৌস, রাশিদা বেগম, তামান্না বেগম, বেবি বেগম, টিনি বেগমসহ আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। সম্প্রতি শামীমা বেগম তার বাড়ির পুরোনো টিনের বেড়া সংস্কারের কাজ শুরু করলে অভিযুক্তরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা, দা, বটি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়। এতে শামীমা বেগম গুরুতর আহত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ লোহার রড দিয়ে তার ডান হাত ও পায়ে আঘাত করেন।
এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার দেবর নূরুল আমিন (৫২)-কেও মারধর করা হয়। এছাড়া নূরুল আমিনের ছেলে মাহমুদুল হাসান জিসান (১৮)-এর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে মহিউদ্দিন তাকে টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। পাশাপাশি অভিযুক্তরা বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে প্রাণনাশসহ আরও বড় ধরনের ক্ষতির হুমকি দিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শামীমা বেগম সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


































