দিনের আলো নিভে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই শহরের মাসদাইরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান ও তার চারপাশের এলাকায় বদলে যেতে শুরু করে পুরো দৃশ্যপট। দিনের বেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের হাঁটাচলা ও স্বাভাবিক চলাচলের অন্যতম প্রধান এই স্থানটি রাতের আঁধার নামতেই রূপ নেয় মাদক কেনাবেচার স্পটে।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত পথচারীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর ঈদগাহ ময়দানের ভেতরে মানুষের স্বাভাবিক ভীড় জমে ওঠে। কিন্তু এই ভীড় এবং পর্যাপ্ত আলোর অভাবকে কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা প্রকাশ্যে ও নির্বিঘ্নে মাদকের কেনাবেচা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, ঈদগাহ ময়দানের ভেতরে এবং আশপাশের অলিগলিজুড়ে একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এই মাদক কারবারের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই এলাকাটিতে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের আনাগোনা বহুগুণ বেড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোটরসাইকেলে চড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবকেরা এখানে মাদক কিনতে আসে।
ঈদগাহসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা জামান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিকেলের দিকে সাধারণ মানুষ, বয়স্ক ব্যক্তিবর্গ এখানে মুক্ত বাতাসে হাঁটাহাঁটি করেন এবং ছোট ছোট বাচ্চারা খেলাধুলা করে।
রাতের দিকে অনেক নারী-পুরুষ এখানে নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক কসরত করতে আসেন। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনালেই এখানে মাদক বিক্রি হয়। মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের আনাগোনা এবং অপরাধমূলক তৎপরতার কারণে রাতে ব্যায়াম করতে আসা নারী-পুরুষদের অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়তে হয়।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, নিয়মিত মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ঈদগাহ ও তার আশপাশের এলাকায় কিশোর গ্যাং কালচারসহ নানা ধরণের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও বেড়েছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরণের নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, এ বিষয়ে সত্যতা যাচাই করা হবে এবং নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


































