বন্দরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জুন্নুন রহমান খান (১৯) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারসহ অপহরনকারী চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। ওই সময় ইনায়া শেখ নামে আরো এক অপহরণকারি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
উদ্ধার হওয়া কলেজ শিক্ষার্থী জুন্নুন রহমান খান ঢাকা মেট্রো পলিটন লালবাগ থানার আজিমপুর হোমটেক টাওয়ার এলাকার মাসুদুর রহমান খানের ছেলে। সে হাজারীবাগ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেনীতে পড়ালেখা করে আসছে।
গ্রেপ্তারকৃত অপহরনকারীরা হলো বন্দর থানার ২১ নং ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকার মৃত আলী হোসেন মিয়ার ছেলে আকাশ (২৪) একই থানার বন্দর আমিন আবাসিক এলাকার মৃত আসাদুজ্জামান মিয়ার ছেলে সিয়াম (২২) নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সৈয়দপুর এলাকার মৃত আব্দুল গফুর মিয়া ছেলে ফয়সাল (২৮) বন্দর থানার বাবুপাড়া এলাকার রাষ্ট্র চন্দ্র শীলের ছেলে সঞ্জয় শীল (২০) ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার কদমতলি এলাকার জামাল হোসেন মিয়ার ছেলে বায়েজিদ (২৩)।
পলাতক অপহরনকারি ইনায়া শেখ নাম পাওয়া গেলে তার তার পিতার নাম ও বাড়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে অপহৃত কলেজ ছাত্রের মা লিউজা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ধৃত ৫ অপহরনকারীসহ ১১ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় এ মামলা দায়ের করেন তিনি। যার মামলা নং- ২৫(২)২৬ ধারা- ৩২৩/ ৩৬৪/ ৩৬৫/ ৩৪ পেনাল কোড- ১৮৬০।
ধৃতদের বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।
গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৪ টায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চরধলেরশ্বরী নির্জন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই কলেজ ছাত্রকে উদ্ধারসহ অপহরনকারি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব-১১।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় বন্দর ১নং খেয়াঘাটের সামনে থেকে কৌশলে অপহরনের ঘটনাটি ঘটে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা লালবাগ থানার আজিমপুর হোমটেক টাওয়ার এলাকার মাসুদুর রহমান খানের ছেলে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জুন্নুন খানের সাথে ঞধহ ঞধহ অ্যাপের মাধ্যমে মামলার ৬নং বিবাদী পলাতক আসামী ইনায়া শেখের পরিচয় হয়।
উক্ত পরিচয়ের সুবাদে কলেজ শিক্ষার্থী জুন্নুন খানের সাথে বিভিন্ন সময়ে অপহরণকরি চক্রের সদস্য ইনায়া শেখ কথা বলত।
এর ধারাবাহিকতা গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অপহরণকারি চক্রের সদস্য ইনায়া খান ফোন করে কলেজ শিক্ষার্থী জুন্নুন খানকে বন্দর ১নং খেয়াঘাটে আসতে বলে। ওই সময় কলেজ ছাত্র জুন্নুন খান সরল বিশ্বাসে তার কথা মতে বন্দর খেয়াঘাটে আসে।
পরে অপহরনকারী চক্রের এক সদস্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রিক্সাযোগে মদনগঞ্জ শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আসলে ওই সময় উৎপেতে থাকা অজ্ঞাত নামা আরো এক অপহরণকারী কলেজ শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে ভুট্টা জমিতে নিয়ে গিযে ১টি মোবাইল সেট, ম্যানিব্যাগে থাকা নগদ ৬ হাজার টাকা, ১টি ঘড়ি ও ১টি লেদারের ব্যাগ যার মূল্য ৩০০ টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
এক পর্যায়ে কলেজ শিক্ষার্থীকে বেদম মারধর করে তার ব্যবহারকৃত মোবাইল ফোন থেকে তার বড় ভাই ইফফতুর রহমান খানের মোবাইলে ফোনে করে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপন দাবি করে। পরে ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রের বড় ভাই ইফফতুর রহমান খান তার ছোট ভাই জুন্নুন খানকে বাঁচাতে প্রদত্ত মোবাইল ফোন ০১৮৬১৬৫১৬৯১ নাম্বারে মুক্তিপন হিসেবে ৪ হাজার ৫’শ টাকা সেন্ডমানি করে।
এ ঘটনায় অপহৃত কলেজ ছাত্রের মা বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১কে জানালে খবর পেয়ে র্যাব-১১ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বন্দরে চর ধলেরশ্বরী নির্জন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত কলেজ ছাত্র জুন্নুন খানকে উদ্ধারসহ অপহরনকারি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।


































