দেশের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ততম মহাসড়ক হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ফলে অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে সড়কটি। কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশের লাঙ্গলবন্দ ব্রিজটি চরম দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। ব্রিজটির বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। যা আসন্ন ঈদে ঘরমুখী যাত্রীর কারণে গাড়ির বাড়তি চাপ বাড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে ঝুঁকি এড়াতে আগামীকাল রোববার (১ মার্চ থেকে সংস্কার কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজটির উভয় লেনে ছোটবড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যকার একটি গর্ত অতিরিক্ত বড় আকার হওয়াতে প্রায় সময়ে দ্রুত কিংবা ধীর গতির যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। অপরদিকে ব্রিজটির ঢাকাগামী লেনের পশ্চিম পাশের রেলিং ভেঙে যাওয়া ব্রিজে উঠতে গিয়ে অনেক সময় যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
সোনারগাঁও অংশে অবস্থিত মেঘনা টোল প্লাজার তথ্যমতে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এ মহাসড়ক দিয়ে অন্তত ২১-২২ হাজার যানবাহন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে আসা-যাওয়া করে। হিসাব অনুযায়ী প্রতি মিনিটে প্রায় ৪০-৫০টি যানবাহন চলাচল করে। তবে, ঈদ কিংবা সরকারি কোনো লম্বা ছুটিতে গাড়ির চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
শিমরাইল ও কাঁচপুর বাসস্ট্যান্ডের দুরপাল্লার কয়েকটি টিকিট কাউন্টারের দায়িত্ব নিয়োজিত থাকা স্টাফরা জানান, লাঙ্গলবন্দ ব্রিজটি অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় সময় সেখানে দুর্ঘটনা ঘটে কিংবা ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন ধীর গতিতে পারাপারের কারণে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে যাত্রীদেরে ভোগান্তি বাড়ে। সেতুটি বেশ পুরনো এবং অন্তত এক যুগ ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরও সড়ক বিভাগ পূর্ণ নির্মাণ বা সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, রোববার থেকে লাঙ্গলবন্দ সেতুর সংস্কার কাজ শুরু হবে। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ঝুঁকি এড়াতে আমরা এটি দ্রুত শেষ করবো। এছাড়া স্থায়ী সমাধানের জন্য পাশে আরও একটি নতুন সেতুর নকশা প্রণয়ন চূড়ান্ত হয়েছে।


































