নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

০৪ আগস্ট ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৭

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:১৯:৪০, ৪ আগস্ট ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ৭

সিদ্ধিরগঞ্জে এক যুবককে কৌশলে ডেকে এনে মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহৃত ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত আরও দুই থেকে তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম (২৫) বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকায় বসবাস করেন এবং দৈনিক মজুরিতে ঢালাই মেশিনের ক্রেন চালকের কাজ করেন। গত ৩ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে সিদ্ধিরগঞ্জের সিআইখোলা বউবাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাত ১১টার দিকে সিআইখোলা মোড়ের পূর্ব পাশে একটি মসজিদসংলগ্ন অজ্ঞাত একটি দোকানঘরে তাকে আটকে রাখা হয়।

 

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সেখানে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রফিকুল ইসলামের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে দুই লাখ টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। একপর্যায়ে তার পকেটে থাকা ৫ হাজার ৩৬০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি টাকা না দিলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পরদিন ৪ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে কৌশলে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে তিনি তার চাচা মো. হাদিসকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং বিকাশের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা পাঠানোর কথা বলেন।

 

এদিকে রফিকুল ইসলামের চাচা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিআইখোলা মোড় এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ সময় আরও দুই থেকে তিনজন পালিয়ে যায়।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—রমজান আলী (২৩), আল আমিন (২২), জিহাদ (২৬), গোলাম কিবরিয়া জয় (২১), রবিউল ইসলাম (২৪), জাহাঙ্গীর (২৩) এবং আরমান (২২)।

 

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য এবং বিভিন্ন সহজ-সরল মানুষকে কৌশলে ডেকে এনে অবরুদ্ধ করে মুক্তিপণ আদায় করতেন। উদ্ধার হওয়ার পর রফিকুল ইসলামকে থানা পুলিশের সহায়তায় নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মামলার এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি জিহাদ সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রাকিবুর রহমান সাগরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, "রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এজাহারে নাম থাকা সাতজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।"