নারায়ণগঞ্জের বন্দরে এক স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বন্দর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় লুণ্ঠিত নগদ টাকা, রূপার গহনা এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে বন্দর থানার সোনাচরা ঢাকেশ্বরী বাজার এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে। তারা দোকানে উপস্থিত এক নারী ও দোকানদারকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, রূপার গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ আনুমানিক ২৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। ডাকাতির পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে বন্দর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখাসহ একাধিক টিম তদন্ত ও অভিযানে নামে। পরবর্তীতে শনিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে রোববার সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন সরাসরি দোকানে ঢুকে ডাকাতিতে অংশ নেন এবং দুজন বাইরে অবস্থান করছিলেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—বন্দর থানার সোনাচরা এলাকার মতি মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন ওরফে আলী হোসেন (৩২), ফজলুল হকের ছেলে মোঃ মিজান (২৬), উত্তর লক্ষণখোলা এলাকার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মোঃ অনিক (২২), মুন্সিগঞ্জ সদরের শোলারচর এলাকার মৃত আব্দুল মতিন বেপারীর ছেলে সুমন বেপারী (৩৮) এবং সোনাচরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে রাজু আহমেদ (২৪)।
পুলিশ জানায়, আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিচারাধীন ১টি মামলা, মিজানের বিরুদ্ধে ৩টি ডাকাতি মামলা, অনিকের বিরুদ্ধে ১টি ডাকাতি মামলা এবং রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে ১টি ডাকাতি মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, ১২ ভরি রূপা (যার মধ্যে ৩ জোড়া নুপুর, ২টি চুড়ি ও ৫টি আংটি রয়েছে), স্বর্ণ ও রূপার প্রলেপ দেওয়া ২টি রুলি (চুড়ি) এবং ১টি স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া ঘটনায় ব্যবহৃত ১৮ ইঞ্চি লম্বা ১টি ছুরি, ১২ ইঞ্চি লম্বা ১টি ছুরি, ১টি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং বাকি লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে বন্দর থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা টিমের যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


































