নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

শনিবার,

০৪ ডিসেম্বর ২০২১

‘মনে হচ্ছিল তিনি কান্না করছেন’ 

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২৩:২৪, ২৪ নভেম্বর ২০২১

‘মনে হচ্ছিল তিনি কান্না করছেন’ 

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় করা ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে। তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা বুধবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে মামুনুল হকের উপস্থিতিতে সাক্ষ্য দেন। তিনি এই মামলার বাদী।

এদিকে ঝর্ণার সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতে অনেকটা খোশ মেজাজে ছিলেন মামুনুল হক। অন্যদিকে অনেকটা মানসিকভাবে দুর্বল দেখা গেছে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে। তিনি কথাও বলতে পারছিলেন না। তার কণ্ঠ ছিল ভারী এবং কথা বলতে গিয়ে বারবার আটকে যাচ্ছিলেন।

আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালীন পুরোটা সময় মামুনুল হককে বেশ খোশ মেজাজে দেখা গেছে। তিনি টেনশনে আছেন কিংবা খুব চিন্তিত এরকম মনে হয়নি। তবে তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা বিমর্ষ অবস্থায় ছিলেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি দাঁড়িয়ে থাকতে না পেরে এজলাসের ভেতরে চেয়ারে বসে পড়েন। তিনি কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়লে নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে পানি পান করতে দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে জান্নাত আরা ঝর্ণা অনেকক্ষণ নীরব থাকেন এবং জবাব দেন। প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় মনে হচ্ছিল তিনি কান্না করছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আগামী ১৩ ডিসেম্বর আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে কাশিমপুর কারাগার থেকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয় মামুনুল হককে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আবার কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতে তোলার সময় সমর্থকরা মামুনুল হককে উদ্দেশ করে সালাম দেন। একইসঙ্গে আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও আদালতের বারান্দায় অনেক সমর্থক এগিয়ে আসেন বুক মেলানোর জন্য। তবে এসময় পুলিশ তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। কাউকে বলতে শোন যায় ‘হুজুর ভয় নেই, আমরা আছি আপনার সাথে’। অনেকে স্লোগান দেওয়ারও চেষ্টা করেন।

এসময় মামুনুল হক তার সমর্থকদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘তোমরা সত্যের পথে থাকো। সত্যের জয় হবে’। যাওয়ার সময় বারবার সমর্থকদের দিকে তাকাতে দেখা যায় হেফাজতের সাবেক এ নেতাকে।

আইনজীবীরা আরও জানান, সাক্ষ্যগ্রহণের শুরুতে আদালত ঝর্ণার মুখের হিজাব খুলতে বলেন। এসময় মামুনুল হক উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘শরিয়তের হুকুম, হিজাব খুলবে না ঝর্ণা।’ তবে ঝর্ণা একবার হিজাব খুলে বিচারককে মুখ দেখিয়ে ফের হিজাব দিয়ে মুখ ঢেকে রাখেন। জেরা চলাকালীন ঝর্ণার দিকে বারবার তাকিয়েছেন মামুনুল হক।

 বুধবার (২৪ নভেম্বর) আদালতে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিপি রকিবুদ্দিন আহমেদ। তাকে সহযোগিতা করেন নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহসীন মিয়া, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েলসহ কয়েকজন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন মেসবাহ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম ওমর ফারুক নয়ন।

গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়্যাল রিসোর্টের একটি কক্ষে জান্নাত আরা ঝর্ণাকে নিয়ে মামুনুল হক অবস্থান করছিলেন। গোপনে খবর পেয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রিসোর্টে ঢুকে মামুনুল হককে নারীসহ অবরুদ্ধ করে। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই রিসোর্টে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ব্যাপক ভাঙচুর করে মামুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় গাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়কে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতার বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এক সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুটি ও সাংবাদিক বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এর কিছুদিন পর স্থানীয়রা আরও তিনটি মামলা করেন। ছয়টি মামলার মধ্যে তিনটি মামলায় প্রধান আসামি মামুনুল হক।

গত ৩০ এপ্রিল বিয়ের প্রলোভনে দুই বছর ধরে ধর্ষণের অভিযোগ এনে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় মামলা করেন জান্নাত আরা ঝর্ণা। তবে মামুনুল হক তাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছেন।
 

সম্পর্কিত বিষয়: