নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

সোমবার,

০৫ জানুয়ারি ২০২৬

কম্বোডিয়ায় বন্দি সিদ্ধিরগঞ্জের তরুণ : ১ মাসে বিক্রি ৬ বার, দেশে ফিরতে আকুতি

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২২:০৬, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

কম্বোডিয়ায় বন্দি সিদ্ধিরগঞ্জের তরুণ : ১ মাসে বিক্রি ৬ বার, দেশে ফিরতে আকুতি

পরিবারের অভাব দূর করে মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলেন ১৯ বছরের তরুণ আমিনুল ইসলাম। স্বপ্ন ছিল রেমিটেন্স যোদ্ধা হয়ে দেশের জন্য কাজ করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

ভালো কাজের প্রলোভনে কম্বোডিয়ায় গিয়ে এক ভয়ঙ্কর মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়েছেন তিনি। গত এক মাসে তাকে সেখানে অন্তত ৬ বার বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি সে দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে বন্দি অবস্থায় দেশে ফেরার জন্য বুকফাটা আকুতি জানাচ্ছেন।

সিদ্ধিরগঞ্জের চর-সুমিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফ্লাই লেয়াদ এভিয়েশন নামক একটি এজেন্সির চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। শুরুতে গ্রিস বা সাইপ্রাসে যাওয়ার জন্য ১১ লাখ টাকার চুক্তি হলেও, পরে ভিসা জটিলতার অজুহাতে তাকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় কম্বোডিয়া পাঠানোর প্রস্তাব দেয় এজেন্সিটি। সেখানে ফার্নিচার কারখানায় ৬০ হাজার টাকা বেতনের প্রলোভন দেখানো হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর পরিবারের শেষ সম্বলটুকু খরচ করে আমিনুল কম্বোডিয়া পাড়ি জমান।

আমিনুলের মা নারগিছ বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু হয় অমানুষিক যন্ত্রণা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো কাজ দেওয়া হয়নি তাকে। উল্টো সেখানকার স্থানীয় দালাল চক্রের কাছে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এক মাসে তাকে ছয়বার হাতবদল বা বিক্রি করা হয়েছে।

গত ১৪ ডিসেম্বর কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশ আমিনুলকে আটক করে। বর্তমানে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য টিকেট কাটার টাকা চেয়ে পরিবারের ওপর চাপ দিচ্ছে পুলিশ। কিন্তু নিঃস্ব পরিবারের পক্ষে সেই টাকা জোগাড় করা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, আমার ছেলে ওখানে খুব অসহায় অবস্থায় আছে, সে বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছে। আমি মা হয়ে ছেলের এই আর্তনাদ কীভাবে সইব? আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।

এই ঘটনায় আমিনুলের মা বাদী হয়ে গত সোমবার (২০ অক্টোবর) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ঢাকার মুগদা এলাকার ফ্লাই লেয়াদ এভিয়েশন এর কর্মকর্তা মো. ইমাম হোসেন (৪০) ও কর্মচারী বর্ষা আক্তার (৩০)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমাম হোসেনের দাবি, তারা চুক্তিমতোই কম্বোডিয়ায় পাঠিয়েছেন এবং তাদের কাছে সব প্রয়োজনীয় নথি রয়েছে।
 

সম্পর্কিত বিষয়: