নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

রোববার,

২৬ মে ২০২৪

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে

সোনারগাঁয়ে এবার খোকার বিরুদ্ধে একহাট্টা আওয়ামীলীগ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২০:০০, ৭ নভেম্বর ২০২৩

সোনারগাঁয়ে এবার খোকার বিরুদ্ধে একহাট্টা আওয়ামীলীগ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের বর্তমান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকার বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে এখানকার  আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী। সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিরোধী আন্দোলন প্রতিরোধে সরাসরি মাঠে থাকছেন আওয়ামীলীগের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে রয়েছেন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আওয়ামীলীগের নেতারা তাদের বক্তব্যে সোনারগাঁয়ে এবার নৌকার প্রার্থী দেয়ার জন্য দলের হাইকমান্ডের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, গত ১০ বছর ধরে সোনারগাঁয়ে লাঙ্গল মার্কার এমপি থাকায় হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারী-বেসরকারি সকল অফিসে তার ও তার লোকজনের তৎপরতা এবং সরকারী সকল অনুদান তার মাধ্যমে বন্টন হওয়ায় তার ব্যক্তিগত ইমেজ বাড়লেও আওয়ামীলীগের ইমেজ সাধারণ মানুষের মাঝে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এমন অভিযোগ আওয়ামীলীগ নেতাদের। সোনারগাঁয়ের এক আওয়ামীলীগ নেতার সঙ্গেও বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন সাংসদ খোকা। তাদের ওই বাকযুদ্ধ আলোচনা-সমালোচনার ঢালপালা ছড়ায় সর্বত্র। সব মিলিয়ে এবার কোনভাবেই জাতীয় পাটিকে ছাড়া দিতে নারাজ আওয়ামীলীগ। আসন্ন নির্বাচনে এখানে আওয়ামীলীগের এক ডজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশী। 


গত ১৩ অক্টোবর কাঁচপুরে আওয়ামীলীগের শান্তি সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক সোনারগাঁয়ের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেনকে খোকাকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, এখানে জাতীয় পার্টির এক এমপি আছেন। তিনি আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছেন। এটি জাতীয় পার্টির সিট নয়। এই এলাকাকে ও এলাকার মানুষকে রক্ষা করতে এখানকার মানুষ নৌকা চায়। জাতীয় পার্টির ভাইয়েরা বড় বড় কথা বলেন। আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন করে দেখেন কয়টি সিট পান। আওয়ামী লীগ জনগণের দল, গণমানুষের দল। এসময় সমাবেশের মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।


সবশেষ গত ৬ নভেম্বর সোনারগাঁয়ের রয়েল রিসোর্টে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম ভুইয়া। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনিসহ তার পরিবারের তিনজন আসন দ্বাদশ জাতীয়্ন নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন চাইবেন।
এছাড়ারও আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য যারা মাঠে নেমেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মোবারক হোসেনের ছেলে এরফান হোসেন দীপ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সদস্য কৃষিবিদ দীপক কুমার বণিক (দীপু) ও সাবেক ছাত্রনেতা এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মারুফুল ইসলাম ঝলক, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন। তাদের দাবি এবার সোনারগাঁয়ে নৌকার প্রার্থী দিতে হবে।


এমপি খোকা ও ডা: বিরুর আলোচিত বাকযুদ্ধ
সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়ন জাতীয়পার্টি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, রাজাকারের আত্নীয়-স্বজন আওয়ামীলীগের ঘাড়ে ভর করে আমাকে ঘায়েল করতে চায়। শুধু তাই নয়, তারা আমাকে ঘায়েল করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও ছোট করতে দ্বিধাবোধ করেনা। আমরা জনগনের ভোটে নির্বাচিত হবো। কে কি বললো তা শুনে আমাদের লাভ নেই। সেদিন কয়েকজন (আওয়ামীলীগ) নেতার বক্তব্য শুনলাম আমি নিজে নিজেই হাসলাম।


ডা: বিরুর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, হায়রে ছাগল, হায়রে পাগল তোগো এসটাবলিশ করতে গিয়া আর আমারে ঘায়েল করার লেইগা নিজের নেত্রীকে তোরা ছোট করলি। বহুৎ লড়াই করে আমি আজ এ জায়গায় এসেছি। আমাকে রাজনীতি শিখাতে এসো না। চাঁদাবাজির রাজনীতি ছেড়ে দেন। সোনারগাঁ জাতীয় পার্টি স্বাধীনতার এক বৃহত্তম শক্তি। এখানে আমরা স্বাধীনতার কোনো বিরোধী শক্তিকে মাথাচাড়া করতে দিবো না।  আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনারা কোন মুখে বলেন সোনারগাঁয়ে উন্নয়ন হয়নি? কার রাজনীতি করেন? কোন রাজনীতি করেন? আমাকে ছোট করা মানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ছোট করছেন।


প্রতিউত্তরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু বলেন, টানা দুইবার সোনারগাঁও আসনে মহাজোটের মাধ্যমে সাংসদ হয়েছেন। তার (খোকা) ব্যক্তিগত পরিচয় তিনি জাতীয় পার্টির একজন নেতা। তিনি পাশ করেছেন নৌকার ভোটের মাধ্যমে। তিনি ধারাবাহিকভাবে সরকার থেকে যে বরাদ্দ পেয়েছেন সে উন্নয়নই সোনারগাঁয়ে হয়েছে। কিন্তু তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো উন্নয়ন সোনারগাঁয়ে দেখাতে পারবেন না। তিনি আমাকে কটাট্ট করেছেন। তিনি আমাকে কথা বলতে বাধ্য করেছেন। আপনার (খোকা) যে যোগ্যতা রয়েছে এর চেয়ে আমাদের সহ-সভাপতি মোবারকের যোগ্যতা আরও বেশি রয়েছে। আপনি তো স্কুলের গন্ডি পার হননি। আপনার তো স্কুলই শেষ হয় নাই আপনি জানবেন কিভাবে। আপনি স্বশিক্ষিত মানুষ। তাই আপনাকে মাথায় ঢুকিয়ে দিতে হয়। আপনার লোক রাস্তা থেকে চাঁদাবাজি করেন। আমার পরিবারে তো অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছে। আপনার পরিবারে একটা মুক্তিযোদ্ধা দেখান তো। আমার বাবার নাম কি আর আপনার বাবার নাম কি তা সবারই জানা। আমার রাজনীতি গন্ডি স্কুল কলেজ পেরিয়ে মেডিকেল কলেজে। আর আপনি তো স্কুলের গন্ডি পার হতে পারেন নি। আপনি মার্কা ছাড়া নির্বাচন করলে জামানত হারানো তো দূরের কথা একটা ভোটও পান কিনা তা সন্দেহ। আর জাতীয় পার্টির প্রতীকে নির্বাচন করেন তাহলে ১০-২০ হাজার ভোট পাবেন। আপনার ভিশন আর আমার ভিশন তো এক না।