নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২১নং ওয়ার্ডের ঐতিহাসিক সোনাকান্দা কেল্লা জামে মসজিদ সংলগ্ন দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান হতে যাচ্ছে। জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে জনদুর্ভোগের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে সংস্কার কাজ শুরু হলেও কাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই স্থানে পূর্বে ৫০নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবস্থিত ছিল। সিটি করপোরেশনের ১০০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার মেগা প্রকল্পে বিদ্যালয় ভবনটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। জনস্বার্থ বিবেচনা করে তৎকালীন মেয়র বিদ্যালয়টিকে অন্যত্র স্থানান্তর ও পুনঃনির্মাণ করেন এবং বিদ্যালয়ের পূর্বের খালি স্থানে রাস্তার টেন্ডার আহ্বান করেন। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসক নিয়োগের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সড়কটির বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। গর্ত আর কাদা-পানিতে একাকার সড়কটিতে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে আসছিল। সম্প্রতি এই সড়কের বেহাল দশা নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে গুরুত্বের সাথে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা তড়িঘড়ি করে সংস্কার কাজ শুরু করার নির্দেশ প্রদান করেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সংস্কার কাজ শুরু হলেও কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরলেও "কচ্ছপ গতির" কারণে ভোগান্তি কমছে না। নির্মাণ সামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রাখায় চলাচলে আরও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ঐতিহাসিক কেল্লা সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় পর্যটক ও মুসল্লিদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি যেহেতু জনসমাগমপূর্ণ এলাকার সাথে যুক্ত, তাই গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করতে হবে। কাজ শেষ হলে ২১নং ওয়ার্ডসহ আশেপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।


































