নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৫ দিনে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত প্রায় শতাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলার আসামিরা। একই সময়ে ইয়াবা, গাঁজা ও স্কাফ সিরাপসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান ও টহল জোরদারের ফলে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি
হলেও স্বস্থি নেই সাধারণ মানুষের মাঝে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ সময়ের উল্লেখযোগ্য গ্রেপ্তারের মধ্যে রয়েছে— শ্বাশুড়ি নির্যাতন মামলায় পুত্রবধূ মারুফা আক্তার মীম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের নেতা আরাফাত কবির ফাহিম, ডাকাতির লুণ্ঠিত মালামালসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা এবং ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত জুবায়ের হত্যা মামলার প্রধান আসামি কিশোর গ্যাং লিডার সজিব ওরফে নাক্কি সজিব।
গত ২৫ জুলাই চুনাভূড়া ক্লাব সংলগ্ন এলাকা থেকে মাদক কারবারি রাসেল (৪০) গ্রেপ্তার হন। ২৪ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে ইয়াবা কারবারি শফিকুল ইসলাম রাতুল (৩১) এবং একই রাতে কলাগাছিয়া ইউনিয়নের জিওধারা চৌরাস্তা এলাকা থেকে ছিনতাইকারী হাবিব (২০) ও রিহাদ (২১) গ্রেপ্তার হয়।
২৩ জুলাই নবীগঞ্জ এলাকা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় আরাফাত কবির ফাহিম (৩০) গ্রেপ্তার হন।
২২ জুলাই মাদকসহ তিন কারবারি ও বিভিন্ন অপরাধে আরও ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২১ জুলাই নিউজিল্যান্ড প্রবাসীর বাড়িতে চুরির ঘটনায় ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভাঙারি ব্যবসায়ী বাবুল গাজীসহ সাতজনকে আদালতে পাঠানো হয়।
২০ জুলাই কিশোর বলৎকার মামলার আসামি নূর ইসলাম (৪৮) এবং গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৮ জুলাই বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিতে চুরির ঘটনায় জাহিদ (১৮) ও মাদক কারবারি হান্নান (৩৫) গ্রেপ্তার হন।
১৫ জুলাই উত্তর লক্ষণখোলা এলাকার একটি পরিত্যক্ত কটন মিলে যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় রাকিব (২৩) ও রাহাত (২০) নামে দুই চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১৩ জুলাই আন্দিরপাড়ে অটোগ্যারেজে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য মফিজুল ইসলাম (৩২) ও শাকিল (২৮) এবং পৃথক অভিযানে তৌহিদুল (৪৩) নামে এক চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১২ জুলাই তিন মাদক কারবারি, তিন চোর ও এক ছিনতাইকারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১১ জুলাই বাজুবাগ এলাকায় শ্বাশুড়ি নির্যাতন মামলায় মারুফা আক্তার মীম (২৬), তার বাবা সেকান্দার মিয়া (৫৫) ও ভাই ইয়াসিন (২০) গ্রেপ্তার হন।
১০ জুলাই আলোচিত জুবায়ের হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব ওরফে নাক্কি সজিব (২২) যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার হয়। একই দিনে আরও দুই মাদক কারবারিসহ একাধিক আসামিকে আটক করা হয়।
৯ জুলাই দুই ডাকাত, দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে তাসকিন কিবরিয়া (১৬)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
৮ জুলাই সিএসডি জামে মসজিদে চুরির ঘটনায় তিন চোর, দুই মাদক কারবারিসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৭ জুলাই পাঁচ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
৬ জুলাই অটোরিকশাচালক মাসুদ রানা হত্যা মামলায় জড়িত জুম্মান (২৭), পারভেজ (২১), আল আমিন (৩৫) ও রফিকুল ইসলাম (২২) গ্রেপ্তার হন।
৫ জুলাই হানিট্র্যাপ চক্রের সাত সদস্য— কাউসার, রবিন, শান্ত, গোলাম রাব্বী, আরিফ, রনি কাজী ও সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৩ জুলাই ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে প্রায় সাড়ে ২০ লাখ টাকা প্রতারণার ঘটনায় মো. সিফাত ওরফে জিয়াউল হাসান, ওসমান (৩৫), কাজল (২৬) ও শাহীন (৪০) গ্রেপ্তার হন।
২ জুলাই চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের সাত সদস্য— জলিল, মহসিন, জসিম, সিফাত, রিয়াদ, শাহজালাল ও সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
১ জুলাই বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোর ও ছিনতাইকারী সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “গত জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে বন্দরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত ২০ থেকে ২৫ দিনে হত্যা মামলার আসামি, সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য, চোর, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি এবং ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিসহ প্রায় শতাধিক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


































