নারায়ণগঞ্জে “ভাইজান” খ্যাত আজমীর ওসমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়াকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয় একাধিক তথ্য মতে, আজমীর ওসমানের রেখে যাওয়া অস্ত্রভাণ্ডারের একটি বড় অংশ বর্তমানে আশরাফ উদ্দিনের কাছে গচ্ছিত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করে, আজমীর ওসমানের সঙ্গে আশরাফ উদ্দিনের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
সেই ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ হিসেবে আজমীর ওসমানের শ্বশুরবাড়ি নরসিংদীতে একটি ট্রাক ফুল দিয়ে সাজিয়ে, বিপুল পরিমাণ মিষ্টি ও দই পাঠানোর ঘটনাও উল্লেখ্য করা হয়। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, শুধুমাত্র গাড়ি সাজাতে ফুল বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং মিষ্টির পেছনে ব্যয় করা হয় প্রায় ৫ লক্ষ টাকা।
সূত্র আরও জানায়, আশরাফ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বিসিক এলাকায় ঝুট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী কাইল্যা রকমতের ক্যাশিয়ার হিসাবও দেখভাল করতেন। একসময় টিকিটের ব্ল্যাকার হিসেবে পরিচিত আশরাফ বর্তমানে শত কোটি টাকার মালিক বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া তিনি এক সময় থানা পুলিশের জন্য নিয়মিত মাসোহারা প্রদান করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হাসিনা সরকারের পতনের পর আশরাফ উদ্দিন আত্মগোপনে চলে যায় আশরাফ।
পরবর্তীতে বিএনপির কিছু নেতাকে ‘ম্যানেজ’ করে তিনি আবার এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, সময়ের সঙ্গে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করছেন তিনি।
সূত্র মতে,৩ ও ৪ আগস্ট তারিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ওপর সংঘটিত হামলার সময় আশরাফ উদ্দিন তার বিশাল ক্যাডার বাহিনী নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলায় অংশ নেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, আশরাফ উদ্দিন নিজেকে সুফিবাদী মানুষ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও বাস্তবে তিনি আজমীর ওসমানের অন্যতম দোসর হিসেবে পরিচিত। এ কারণে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়াকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


































