নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বৃহস্পতিবার,

০৮ অক্টোবর ২০২৬

ফতুল্লায় মন্দিরের পূজারি থানায় আটক, ১৬ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্ত

নারায়ণগঞ্জ টাইমস:

প্রকাশিত:২৩:১৫, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ফতুল্লায় মন্দিরের পূজারি থানায় আটক, ১৬ ঘণ্টা পর মুচলেকায় মুক্ত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় শ্রী শ্রী পাগলনাথ ও রামসীতা মন্দিরের পূজারি চিন্ময় দাস মহন্তকে থানায় ডেকে নেওয়ার পর প্রায় ১৬ ঘণ্টা আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

চিন্ময় দাস মহন্তকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে বুধবার সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় আলোচনা হয়।

সভায় ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটুসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন প্রতিনিধি বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে সভায় উপস্থিত ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাদের জানান, চিন্ময় দাস মহন্তকে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাকে কী কারণে থানায় এনে হাজতে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে সভায় বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

যেভাবে থানায় নেওয়া হয়

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মন্দিরে গিয়ে চিন্ময় দাস মহন্তকে জানান, থানার ওসি তাকে থানায় যেতে বলেছেন। পরে তিনি পুলিশের সঙ্গে থানায় যান।

থানায় যাওয়ার পর তাকে হাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় নিজের মুঠোফোন থেকে পরিচিত এক গণমাধ্যমকর্মীকে বিষয়টি জানান তিনি। পরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন।

অভিযোগ রয়েছে, তাকে হাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়ার পর ওসি থানা থেকে বেরিয়ে যান। কয়েক ঘণ্টা পর ফিরে এসে সংশ্লিষ্টদের জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সকালে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পরদিন বুধবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় যান থানার ওসি। ওই সভায় চিন্ময় দাস মহন্তকে আটকের বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মন্দিরের জায়গা নিয়ে মামলা

স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, মন্দিরের জায়গা নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলার বাদী চিন্ময় দাস মহন্ত। মামলায় তিনি স্থগিতাদেশ (স্টে অর্ডার) চেয়ে আবেদন করলে আদালত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তার আবেদনের পক্ষে আদেশ দেন বলে সূত্রটি দাবি করেছে।

সূত্রটির আরও দাবি, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ চলছিল। এ সময়ই তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে তাকে আটকের সঙ্গে আদালতের মামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, কিংবা তাকে কেন থানায় এনে হাজতে রাখা হয়েছিল—এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, পূজারির আটকের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপনের পর তাকে ছেড়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে তারা জানান।

চিন্ময় দাস মহন্তকে আটকের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, আদালতের আদেশ না হওয়া পর্যন্ত চিন্ময় দাস মহন্ত ওই জায়গায় কাজ করবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছেন। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়: