নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

বুধবার,

২০ অক্টোবর ২০২১

বেদনায় ভরে আছে মন

এনামুল হক প্রিন্স

প্রকাশিত:১৮:৪৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

বেদনায় ভরে আছে মন

তালপাকা ভাদ্র মাসে পড়ন্ত বিকেলে বন্দর ঘাট দিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে হাত ধরাধরি করেই নৌকায় পারাপার। দুজনের নৌকায় দাড়িয়ে পানিতে ভাসতে ভাসতে দেখা হলো নীল আকাশের বিশালতা। আগস্টেই জন্মদিন পালন করলাম দুজনে দুজনার হয়েই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই কথা তোমার বুকে যেন আমার চীরদিনের জন্য ঠাঁই হয়। প্রায় তিন বছর দেখা না হওয়ায় নিজের চাপা কষ্ট বুঁকে পুষে হাসি মাখা মুখ নিয়ে জগৎ সংসারে ঘুরে বেড়ান সেকথা গুলোতে থাকছে ঠোঁটের কোনে হাসির ঝিলিক।

 

খুব অল্প সংখ্যক মেয়ে এমন হয়, যারা কিনা রূপবতী ও বুদ্ধিমতীর মতো গুণ একসঙ্গে রাখে। তার সঙ্গে দুচোখের দৃষ্টি নন্দন চাহনি, এটা তার সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি দেখেছি তোমার মধ্যে এইসব সৌন্দর্যই রয়েছে। বছর বার আগে আমি তোমার বহুমাত্রিক গুণের প্রেমে পড়েছি। আমি যতদূর জানি প্রেমে পড়লে নারীর লজ্জা নাকি কমে যায় আর পুরুষের বেড়ে যায়। জানিনা আমার জন্য তোমার প্রত্যাশা কেমন। এই বিশ্বাসে তোমার সব চাওয়াই পূরণ করার চেষ্টা করব। অপেক্ষার আর যেন শেষ হয়না। আমি তোমাকেই প্রায়ই বলি আর কতকাল অপেক্ষা তুমি চুপ হয়ে অবাক বিষ্ময়ে চেয়ে থাকো ফ্যাল ফ্যাল করে। চিন্তা ভাবনা করে আমি বলেই ফেললাম অপেক্ষা হলো শুদ্ধতম ভালোবাসার একটি চিহ্ন।

 

 

সবাই ভালোবাসি বলতে পারে, কিন্তু সবাই অপেক্ষা করে সেই ভালোবাসা প্রমাণ করতে পারেনা। নয়নতারা একটি শব্দ দুটি নাম। নয়ন প্রাণের মানুষ তারা ভালোবাসার ঝিলিক। তারা এখন ভরা বর্ষার মত পুরো যৌবনবর্তী। অল্প বয়সেই মা হারিয়ে তারা সংসারের হাল ধরেন তবুও কখনো তাকে ক্লান্ত হতে দেখিনি। আমি বলি সংসারে এত কিছু করে ক্লান্তি বোধ নেই তোমার। দুজনের সংসারে নানা ধরনের ব্যক্তি পর্যায়ে চলছে পারিবারিক মনস্তাতিক সমস্যা। নয়নতারার মধ্যে নানা কারনেই বিরাজ করছে অস্থীরতা। তারা হঠাৎ করেই বলে ফেলল তোমার মত করেই পথ চল। এই নিয়ে দীর্ঘ বাক বিতন্ডতা।

 

আমার খুব ইচ্ছে হয় তোমার এলোমেলো অবিন্যস্ত চুলগুলো ছুঁয়ে দেখার। অধিকারের অভাবে কাঁপতে থাকা আমার হাতের আঙুল যদি বুঝে যেতে এক নিমিষেই “তুমি” নামক একটি বিশাল আকাশ দেখতে না পারার বিষন্নতা নিয়ে ক্লান্ত সন্ধ্যায় টলমল করে আমার দুচোখ। যদি তুমি টের পেয়ে যেতে এই যোজন যোজন মাইল দূরত্বে থেকেও তোমাকে জয় করার স্বপ্নটুকু তুমি যদি জানতে সদ্য ফোটা নয়নতারা ফুলের মতো সরল মুদ্ধতা নিয়ে তোমার চোখে তাকিয়ে থাকা প্রতিটির সকালের কথা তাহলে হয়তো অনেক কিছুই সহজ হয়ে যেত। তুমি আমার সৌভাগ্যে সব মুগ্ধতা আর অভিমানের দেয়াল পেরিয়ে আমার ভালো থাকা।

 

পরিচয়ের আজ বারতম বার্ষিকী। তোমার মতো একজন সৎ, আদর্শবান, কর্মঠ, ধর্মানুরাগী মানুষ পেয়েছি, এক জীবনে এর চেয়ে সৌভাগ্যের আর কিছুই হতে পারে না। তোমার প্রতি আমার সাতজন্মের ভালোবাসা। জীবনে বাস্তবিক সংঘাত, রাগ-অনুরাগ ও মান-অভিমান আর নানা টানা পোড়েন থাকবেই। তবু দিন শেষে সব কিছু ছাপিয়ে অন্তত তুমি বলবে, আমি মানুষ ছিলাম। সত্যিই তোমাকে খুব বেশি ভালোবাসি। আর ভালেবাসার মানুষকে ভিন্ন উপায়ে ভালোবাসি বলার মধ্যেও একটা আনন্দ আছে।

 

জানি আমাদের একসঙ্গে চলার পথ এতটা পুরোনো নয়। তবে কথা দিচ্ছি পথটাকে টেনে নিয়ে যাব একেবারে জীবনের শেষ সীমানা পর্যন্ত। গ্রীষ্মের রোদ্র হোক বা বর্ষার বৃষ্টি, তোমার হাত আজীবন এভাবেই ধরে রাখতে চাই। তোমাকে ঘিরে আমার অনেক স্বপ্ন, যা বলে শেষ করতে পারব না। আমার অনুভবে শুধুই তুমি। তোমার জন্য আজকাল কোন কবিতা লেখা হয় না, কেন জানো? কিছু ভাবতে গেলে তোমাকে ভেবে বসি। কিছ লিখতে গেলেও তোমাতে আটকে যাই। তোমার চাঁদ বদন দেখলে আমার সব দুঃখ দূর হয়ে যায়। ভালো লাগে খুব শান্তি পাই। অনেকদিন ধরে তোমাকে দেখিনা। আর না দেখার বেদনা আমাকে ভীষনভাবে পীড়া দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে একদিন আমাদের দেখা হোক, চোখে চোখ পড়ুক। মনে আসুক প্রশান্তি। ততদিন পর্যন্ত ঘরে থাকো, সুস্থ্য থাকো।

 

প্রথম দশ বছর বাস্তবে তোমার সাথে দেখা হলেও ঘোরাঘুরি হয়নি। কেবল কয়েক মিনিট কথা হয়েছে। ওটাই ছিল শুরু। তবে শেষ নয়। আজ এক অসাধারন, অনন্য একটি স্বপ্নে তোমার সাথে সাক্ষাৎ হলো। স্বপ্নেও মানুষের এতটা কাছে যাওয়া যায় আগে কখনো ভাবিনি। কত সুন্দর কত স্নিগ্ধতায় মোড়ানো একটি স্বপ্ন। দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও তোমার প্রতি ভালোবাসা শ্রদ্ধা মায়া আবেগ এক বিন্দুও কমেনি। তুমি সব সময় মস্তিকেই আছো বলেই হয়তো স্বপ্নে তোমার অবাধ বিচরণ। এমন স্বপ্ন বারবার আসুক। ভালো থাকো স্বপ্ন চারিনী। দুজন পথ চলতে চলতে শরতের সন্ধ্যায় আমার হাত ধরে লাল টলটলে চাঁদ আমাকে দু’নয়নে চেয়ে দেখতে বললে। সেই থেকে বুঝলাম তুমি চাঁদকে খুবই ভালোবাসো।

 

একদিন আমাকে বলেছিলে তোমার একটি ডাক নাম দেই। আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না, কী নামে ডাকব তোমাকে। হঠাৎ মাথায় এলো চাঁদ প্রেমী মানুষটার ডাক নাম “চাঁদের বুড়ি” দিলে কেমন হয়। তুমি খুব হেসেছিলে শুনে। বিধি নিষেধের লম্বা এই সময়ে অনেকটা সময় কেটেছে তোমার সঙ্গে সুখ-দুঃখ আর নানা ভাবনার কথা বলে। প্রেম মানেই তো মন কেমন করা, বুকের মধ্যে কী যেন এক তোলপাড় করা অনভূতি। প্রেম নাকি নীরবে আসে। সোনারঙে আঁকা স্মৃতির ঝরোকা প্রেম আসে প্রেম যায় কিন্তু প্রেম একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি হয়ে বয়ে যায় মনের গহিনে। আমার ছোট্ট টেবিলে এখনো বইয়ের সমাহার। জানো, তোমার সঙ্গে শেষ দেখা হওয়ার পরদিন থেকে ভীষন রকম অগোছালো আর এলোমেলো আমি। নিজেকে ঠিকঠাক গোছাতেই পারছিনা। অথচ তুমি সবকিছু তোমার মতো করে কীভাবে যেন গুছিয়ে নিতে পার। তুমি বললে দেখা হবে কোন এক মাঘের শীতে।
 

সম্পর্কিত বিষয়: