নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডকইয়ার্ডে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মালিককে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন—খন্দকার আমজাদ হোসেন ওরফে বল্টু আমজাদের ছেলে হৃদয় (২৯) ও আপন (২২)।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বন্দর থানার বক্তারকান্দি এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে মামলার প্রধান অভিযুক্ত বল্টু আমজাদকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বল্টু আমজাদ তার দুই ছেলে আপন ও হৃদয় এবং সহযোগী আরিফসহ কয়েকজনকে নিয়ে বক্তারকান্দি এলাকার একটি ডকইয়ার্ডে হামলা চালান। এ সময় তারা ডকইয়ার্ডের প্রধান ফটক ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় ডকইয়ার্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়। ডকইয়ার্ডের মালিক মো. ইমান খান (৪২) অফিসে অবস্থান করছিলেন। অভিযুক্তরা তাকে জোর করে অফিস থেকে বের করে ডকইয়ার্ডের বাইরে একটি বটগাছের কাছে নিয়ে যান। সেখানে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মারধরের ঘটনায় ইমান খানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও জখম হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষের আরও দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ডকইয়ার্ডের বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধভাবে ব্যবহার করে একটি ঝুটের গুদাম ও ক্লাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিলেন। এর প্রতিবাদ করায় ডকইয়ার্ডের মালিক ও কর্মীদের বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতি মাসে ফ্যাক্টরি থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চাঁদার স্লিপ ও স্বাক্ষর সংরক্ষিত রয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, খন্দকার আমজাদ হোসেন ওরফে বল্টু আমজাদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অস্ত্র, হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে বল্টু আমজাদকে এখনো গ্রেপ্তার না করায় ডকইয়ার্ডের মালিক ইমান খান ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে এলাকায়ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মামলার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


































