নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times

মঙ্গলবার,

১৬ এপ্রিল ২০২৪

ফতুল্লায় মাদক ও চাকুসহ আটক, ছেড়ে দিল পুলিশ

নারায়ণগঞ্জ টাইমস

প্রকাশিত:২৩:১৬, ৩০ জানুয়ারি ২০২৪

ফতুল্লায় মাদক ও চাকুসহ আটক, ছেড়ে দিল পুলিশ

ফতুল্লায় মাদক ও দেশীয় অস্ত্রসহ সাদ্দাম নামে মাদক ব্যবসায়ীকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে দিলেও কয়েক ঘন্টা পর ওই মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে  মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বমহলে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে পুলিশের কাজ হচ্ছে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা, সেখানে এলাকাবাসী আটক করে দেয়ার পরও পুলিশ কিভাবে অপরাধীকে ছেড়ে দিলো?

এদিকে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও উল্টো পুলিশ বলছে, সাদ্দাম অপরাধী না, পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে। এটা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। চাকু অন্যরা পকেটে ঢুকিয়ে দিয়েছে। কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। 

স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের এ রকম অনৈতিক কর্মকান্ডের কারনেই মানুষ তাদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। গত দুই মাসে চারটি গণপিটুনির ঘটনায় চার জনের মৃত্যুই এর যার প্রমান স্বরূপ। এছাড়াও ঘটেছে একাধিক হামলা ও মারধরের ঘটনা।  

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে কাশিপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ফরাজিকান্দা এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, সোমবার ফজর নামাজের সময় গোপনে এক মহিলার ঘরে প্রবেশ করে মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশের সোর্স হিসেবে চিহ্নিত সাদ্দাম হোসেন। ওই মহিলা ঘরের বাইরে থেকে তা দেখে ফেলে এবং চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে সাদ্দামকে আটক করে। 

এসময় তার কাছে বেশ কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের ফুয়েল পেপার, ২টি চাকু, ৩টি মোবাইল ও নগদ ৭ হাজার টাকা জব্দ করে। পাশের মসজিদে নামাজরত মুসল্লীরা চিৎকার-চেচামেচি শুনতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে যান। 

পরে স্থানীয়রা সাদ্দামকে ওই মাদক, চাকু, জব্দকৃত মোবাইল ও টাকাসহ পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কিন্তু ঘটনার ৩/৪ ঘন্টা পরই সাদ্দাম হোসেন এলাকায় ফিরে এসে এলাকাবাসীকে হুমকি দেয় এবং আমি তো পুলিশের কাজই করি, পুলিশ আমাকে আটক রাখবে না। বরং তোরা যারা আমাকে ধরিয়ে দিয়েছিস, তোদেরকে পুলিশ দিয়ে আটক করাবো। 

এ বিষয়ে স্থানীয় মুরুব্বী ও সাবেক ব্যাংকার লাল মিয়া বলেন, আমি সাবেক ব্যাংকার। প্রতিদিনের মতো সকালে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাই। মসজিদে থাকা অবস্থায় হৈ-চৈ শুনতে পাই। নামাজ শেষে দেখি সাদ্দামকে আটক করে মারধর করছে জনতা। তার কাছে বেশ কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি চাকু, ৩ টি মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা পাওয়া যায়। 

জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে তাকে আমাদের হেফাজতে রাখি এবং পুলিশে খবর দেই। ফতুল্লা থানার এস আই আনোয়ার আসলে মাদক, চাকু, টাকা ও ফুয়েলসহ সাদ্দামকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। 

এসময় পঞ্চায়েত প্রধান আলী আক্কাস, আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আমিন সহ শতাধিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলো। কিন্তু ঘটনার ৩/৪ ঘন্টা পর আটককৃত সাদ্দামকে এলাকায় দেখা যায়। এলাকায় এসেই সে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে বলে জানতে পারি। 

পঞ্চায়েত প্রধান আলী আক্কাস বলেন, ফজরের নামাজের পরে শুনতে পেলাম এক নারীর ঘরে গোপনে প্রবেশ করে সাদ্দাম। কিন্তু ঐ নারী তখন ঘরের বাইরে থাকায় তাকে, ঘরে প্রবেশ করতে দেখে ফেলে চিৎকার শুরু করে। তার চিৎকারে এলাকাবাসী জড়ো হলে সাদ্দামকে আটক করা হয়। 

এসময় তার কাছে বেশ কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট, ইয়াবা সেবনের ফুয়েল, ২ টি চাকু, ৩টি মোবাইল ও নগদ ৭ হাজার টাকা জব্দ করে পুলিশে খবর দেয়া হয়। 

ফতুল্লা থানার এস আই (উপ-পরিদর্শক) আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে আসলে ধৃত সাদ্দামকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কিন্তু ঘটনার ৩/৪ ঘন্টা পরই সাদ্দাম হোসেন এলাকায় ফিরে আসে।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও বহু অপরাধে  এলাকাবাসী তাকে মারধর করেছে। কিছুদিন আগে গোসলের সময় এক নারীর নগ্ন ভিডিও ধারনের চেষ্টা করলে জনগন তাকে আটক করে পিটিয়েছে। এছাড়া, পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে সারা রাত এলাকায় মাদক বিক্রি করে বেড়ায় সে। 

আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আমিন বলেন, ঘটনার সময় শতাধিক লোকজন উপস্থিত ছিলো। আমিও ছিলাম তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন মাদক বিক্রেতার পক্ষ নিয়ে বলেন, সাদ্দাম তো অপরাধী না। ও পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে। কয়েকটা আসামীকে ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সহযোগীতা করেছে সে, তাই ষড়যন্ত্র করে ওকে আটক করেছিলো। 

মোবাইলগুলো ওর নিজের, চাকু অন্যরা ওর পকেটে ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং ইয়াবা বা কোনো মাদক পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া, সাদ্দামের প্রতি সহানুভুতি জানিয়ে তিনি বলেন, ছেলেটাকে অনেক মারধর করা হয়েছে। স্থানীয়রা কেউ স্বাক্ষী না হওয়ায় আটককৃত সাদ্দামকে ছেড়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। 

তবে, নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সিনিয়র আইনজীবী এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, কেউ স্বাক্ষী না হলেও এলাকাবাসী কর্তৃক মাদক ও চাকুসহ আটককৃত এ ধরনের আসামিকে পুলিশ ছেড়ে দিতে পারে না। এটা আইনের পরিপন্থী। 

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ওসি নুরে আযম মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।